সিইসি সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধান বহির্ভূতভাবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথের ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে সংসদে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Mar 31, 2026 - 20:53
 0  7
×

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দেশের সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে চরমভাবে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে অবৈধ এবং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘প্রতারণার দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

​শপথ ভঙ্গ ও এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ

​স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফশিল উদ্ধৃত করে গত বছর জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর আইনি অসারতা ব্যাখ্যা করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তার নেই।” তিনি দাবি করেন, এই কাজের মাধ্যমে সিইসি তার সাংবিধানিক পদের অমর্যাদা করেছেন।

​ম্যান্ডেট বনাম অস্তিত্বহীন পরিষদ

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন গত নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যালট দিয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কোনো আলাদা ব্যালট ছিল না। জনগণ আমাদের সংসদ সদস্য হিসেবে ম্যান্ডেট দিয়েছে, অস্তিত্বহীন কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।” তিনি মনে করেন, সংসদ সদস্যদের ওপর অন্য কোনো পরিষদের সদস্যপদ চাপিয়ে দেওয়া সার্বভৌম পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা।

​আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

​বিগত সরকারের জারি করা আদেশটিকে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ (শুরু থেকেই বাতিল) আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির এ ধরনের বিশেষ আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা অনেক আগেই রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন বা পরিষদ আহ্বান করা যায় না। এটি না কোনো অধ্যাদেশ, না কোনো আইন—এটি স্রেফ একটি প্রতারণা মাত্র।

​মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। এই ইস্যুতে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।