সাংবাদিক নির্যাতন জামায়াতের স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ: শেখ ফজলুল করিম মারুফ
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির প্রচার সম্পাদক এটিকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে জামায়াতে ইসলামীর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বর হামলা একটি স্বীকৃত স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ এবং এ ধরনের ঘটনা সুস্থ ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।”
মঙ্গলবার (২৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে শেখ ফজলুল করীম মারুফ উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরা হলেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং জনগণের চোখ। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন ঘটনা ও বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরেন। সেই সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
জামায়াতের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের সমালোচনা:
বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একটি কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তা দলটির ভেতরে বিকশিত হতে থাকা স্বৈরতান্ত্রিক ও উগ্র মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছে।”
তিনি জানান, হামলার শিকার মাহফুজুর রহমান শিশির ‘দৈনিক সকালের’ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া ‘দ্য নিউজের’ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মসূচি চলাকালে অন্তত ১০ জন গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।
আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থার দাবি:
আহত সাংবাদিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও পূর্ণ সংহতি জানিয়ে শেখ ফজলুল করীম মারুফ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, “হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক অজুহাত বা শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জামায়াতের নেতা-কর্মী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, তাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের এই বিপথগামী কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটিও এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পরিশেষে জামায়াত নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের কর্মীদের মানসিক ও নৈতিক গঠনে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা কিংবা মতভিন্নতাকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মোকাবিলা করার এই বিপজ্জনক প্রবণতা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য চরম ক্ষতিকর।


