ইরানের হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আহত ২৩২ ইসরায়েলি: এক মাসে হাসপাতালে ভর্তি ৬ হাজার

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ২৩২ জন আহত হয়েছেন; গত এক মাসে ইরানের পাল্টা আঘাতে মোট আহত ইসরায়েলির সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

Mar 30, 2026 - 14:43
 0  3
ইরানের হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আহত ২৩২ ইসরায়েলি: এক মাসে হাসপাতালে ভর্তি ৬ হাজার
×

ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ইসরায়েলে অন্তত ২৩২ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে এই ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান সামনে এলো।

হতাহতের বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা

​স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আহত ২৩২ জনের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া ৮ জন মাঝারি মাত্রার আঘাতপ্রাপ্ত এবং ২১৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। বাকি ৭ জন সরাসরি শারিরীকভাবে আঘাত না পেলেও হামলার ভয়াবহতায় তীব্র মানসিক উদ্বেগ ও ভীতিতে (Trauma) ভুগছেন, তাদেরও বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

​বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এক মাসে ইরানের হামলায় মোট ৬ হাজার ৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২১ জন এখনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

যুদ্ধের পটভূমি: 'অপারেশন এপিক ফিউরি'

​ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে দীর্ঘ দুই দশকের দ্বন্দ্ব গত ফেব্রুয়ারি মাসে চরমে পৌঁছায়। ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলা সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

ইরানের পাল্টা জবাব ও আঞ্চলিক বিস্তার

​শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর থেকে ইরানও সমানতালে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ— সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। এক মাস পেরিয়ে গেলেও এই পাল্টাপাল্টি হামলা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।