ইরান যুদ্ধ যেভাবে আমিরাতের লিবেরাল মুখোশ খুলে দিয়েছে

ইরান যুদ্ধের তথ্য গোপন করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কঠোর সেন্সরশিপ এবং সাইবার আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

Apr 2, 2026 - 08:00
 0  2
ইরান যুদ্ধ যেভাবে আমিরাতের লিবেরাল মুখোশ খুলে দিয়েছে
×

সম্প্রতি একটি ইরানি ড্রোন দুবাই বন্দরে কুয়েতের ‘আল সালমি’ নামক একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী এই জ্বলন্ত জাহাজের কোনো ভিডিও বা স্পষ্ট ছবি জনসমক্ষে আসতে পারেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ইরান যুদ্ধের খবর এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

​তথ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন ও গ্রেপ্তার আমিরাত সরকারের কঠোর নির্দেশনায় কোনো হামলার ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা মাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গত ১২ মার্চ দুবাইয়ের ক্রিক হারবার এলাকায় আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার ছবি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারকে পাঠানোর অপরাধেও তিন বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া একটি প্রাইভেট গ্রুপ চ্যাটে হামলার খবর শেয়ার করায় ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।

​দেশটির সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী, ‘গুজব বা উত্তেজনামূলক’ কিছু প্রচার করলে দুই বছরের জেল এবং ২০ হাজার থেকে ২ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’-এর প্রধান রাধা স্টার্লিং জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত সাধারণ মানুষ এই আইনের শিকার হয়েছেন। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় মানুষের ফোন তল্লাশি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

​গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় বাধা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি দাবি করেছেন, এসব ছবি শেয়ার করলে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে পারে। তবে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)-এর পরিচালক সারা কুদাহ জানিয়েছেন, দেশটিতে কর্মরত সাংবাদিকরা কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সত্য প্রকাশ করতে পারছেন না। অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিককে দিনের পর দিন আটকে রাখার খবরও পাওয়া গেছে।

​নিরাপত্তার সংকট ও ভাবমূর্তি রক্ষা দুবাই নিজেকে বিশ্বের নিরাপদতম শহর হিসেবে দাবি করলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ১,৯৭৭টি ড্রোন এবং ৪৩৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত হেনেছে। বর্তমানে দুবাই বিমানবন্দর মাত্র ৬০% ক্ষমতায় চলছে এবং স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

​বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই তাদের তথাকথিত লিবেরাল ও নিরাপদ ভাবমূর্তি রক্ষা করতে গিয়ে চরম কর্তৃত্ববাদী পথ বেছে নিয়েছে। রাধা স্টার্লিংয়ের মতে, মিসাইল ঠেকানোর চেয়ে মানুষকে দমনে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি ভাবমূর্তিই বরং বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।