মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলা, বহু মার্কিন সেনা নিহতের দাবি
পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর ৬টি যুদ্ধজাহাজে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের আইআরজিসি; ৩টি জাহাজ নিমজ্জিত ও বহু সেনা নিহতের দাবি।
পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয়টি ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, এই বিশেষ অভিযানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং তাদের বেশ কিছু যুদ্ধসরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
অভিযানের বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি:
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, 'অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪'-এর অংশ হিসেবে এই হাইব্রিড অপারেশন পরিচালনা করা হয়। দুবাই উপকূল ও আল-শুয়ুখ বন্দরে মোতায়েন করা মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'কদর-৩৮০' ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী:
হামলায় আমেরিকার ছয়টি ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি জাহাজ সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
এর মধ্যে তিনটি যুদ্ধজাহাজ সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে এবং বাকি তিনটিতে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে।
দুবাই উপকূলে মার্কিন ড্রোন ইউনিটের কর্মীদের আবাসন ও একটি হোটেলে কামিকাজে (আত্মঘাতী) ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও প্রতিশোধ:
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান এই অভিযানকে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং মার্কিন বাহিনীকে 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত এক মাস ধরেই ইরান নিয়মিত বিরতিতে এমন প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
এই হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) থেকে নিহতের সঠিক সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্কিন বাহিনীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।


