ইসলামী ব্যাংক নিয়ে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে দ্রুত সৎ ও যোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র।

Jun 22, 2026 - 14:52
 0  3
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : বাংলাদেশ ব্যাংক
×

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’ নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

​তিনি বলেন, “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের একটি অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই ব্যাংক কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতের ওপর পড়বে। তাই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বরদাশত করা হবে না। ব্যাংকটিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সৎ, যোগ্য এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একটি শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) গঠন করা হবে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ ও আলটিমেটাম:

এর আগে আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সুনির্দিষ্ট দুটি দাবি তুলে ধরেন:

১. ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদে বিতর্কিত ‘এস আলম গ্রুপ’-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা যাবে না।

২. ২০১৭ সালের পর অবৈধভাবে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের আগে যারা এই ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানার (উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের পরিচালনা পর্ষদে পুনর্বহাল করতে হবে।

​বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

আন্দোলনের পটভূমি:

উল্লেখ্য, গত ১ জুন থেকে সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের একাংশ আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের মুখে গত ১৩ জুন ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

​পরবর্তীতে ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে ব্যাংকটির বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৬ জুন দ্রুততম সময়ে যোগ্য পর্ষদ গঠন এবং এস আলম গ্রুপের জব্দকৃত শেয়ার পুরোনো ও প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছিল সচেতন গ্রাহক ফোরাম।