আল আকসায় তারাবি বন্ধে খতিবের তীব্র প্রতিক্রিয়া
জরুরি অবস্থার অজুহাতে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ ও তারাবি নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। এই পদক্ষেপকে অবৈধ বললেন খতিব ইকরিমা সাবরি।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সং-ঘা-ত-কে কেন্দ্র করে জারি করা জরুরি অবস্থার অজুহাতে অধিকৃত জেরুসালেমের মসজিদুল আকসায় ইশা ও তারাবির নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। শনিবার (১ মার্চ) রমজানের ১১তম রাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন আল-আকসা মসজিদের খতিব শায়খ ইকরিমা সাবরি।
মুসল্লিশূন্য আল-আকসা:
ইসলামি ওয়াক্ফ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাত থেকে সাধারণ মুসল্লিদের কাউকেই মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুধু মসজিদের ইমাম, পরিচালক এবং হাতেগোনা কয়েকজন ওয়াক্ফ কর্মী এশার নামাজ আদায় করার সুযোগ পেয়েছেন। রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন লাখো মুসল্লি অংশ নিলেও বর্তমানে আল-আকসা কার্যত মুসল্লিশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
খতিবের প্রতিক্রিয়া:
জেরুজালেমের ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি বলেন, "জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মসজিদ বন্ধ রাখার কোনো বৈধতা নেই। এর মাধ্যমে দখলদার কর্তৃপক্ষ মসজিদের ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়।" তিনি জানান, যু-দ্ধ পরিস্থিতির কথা বলে শনিবার জোহরের আজানের আগে থেকেই সব মুসল্লি ও কর্মীদের বের করে দিয়ে মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুরো রমজান বন্ধ থাকার আশঙ্কা:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হা-ম-লা-র পর ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে কড়া জরুরি অবস্থা জারি করেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে পুরো রমজান জুড়েই আল-আকসা বন্ধ রাখা হতে পারে। একই অজুহাতে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদও বন্ধ রাখা হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা:
জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস মনে করেন, এটি নিছক নিরাপত্তা নয়, বরং আল-আকসাকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, মসজিদটির ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এই চেষ্টাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া উচিত নয় এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে এর মোকাবিলা করতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও ওয়াফা।


