চতুর্মুখী হুমকিতে ইসরায়েল: ফুরিয়ে আসছে আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইলের মজুত
ইরান, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের বহুমুখী হামলায় চরম সংকটে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা; ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত ফুরিয়ে আসায় ‘রেশনিং’ পদ্ধতি গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে তেল আবিব।
ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে এক মাস ধরে চলা যুদ্ধে ভয়াবহ সামরিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের হিজবুল্লাহর পর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় চতুর্মুখী হুমকির মুখে পড়েছে দেশটি। ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রাণভোমরা ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইল’-এর মজুত বিপজ্জনক হারে কমে আসছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।
ইন্টারসেপ্টর সংকট ও রেশনিং পদ্ধতি
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও তাদের প্রক্সি গ্রুপগুলোর ধেয়ে আসা শত শত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে তাদের সবচেয়ে উন্নত ‘অ্যারো’ (Arrow) এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে কয়েক লাখ ডলার খরচ হওয়ায় এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল ব্যয় হওয়ায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
মজুত ফুরিয়ে আসায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন ‘রেশনিং’ বা সীমিত ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে। বর্তমানে তারা কেবল সেই সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করছে, যেগুলো সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। মরুভূমি বা জনশূন্য স্থানে পড়ার সম্ভাবনা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে এখন আর ইন্টারসেপ্ট করা হচ্ছে না।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সক্ষমতায় ফাটল
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জনসমক্ষে ইসরায়েল সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে দাবি করলেও দেশটির বিরোধী দলগুলো তার কঠোর সমালোচনা করছে। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর কাছে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই এবং তিনি সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় দেখা গেছে, ইরানি ড্রোন ও মিসাইল মাঝে মাঝেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, যার প্রধান কারণ ইন্টারসেপ্টরের স্বল্পতা।
ওয়াশিংটনের দিকে চাতক দৃষ্টি
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব ‘থাড’ (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলে মোতায়েন করেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, একই সাথে ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা মেটাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতও চাপের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো দিনরাত ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন চালিয়েও কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের সংকটে চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। এই অবস্থা আরও কয়েক সপ্তাহ চললে ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


