প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অস্ত্রসহ যুবলীগ নেতা আটক
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টার সময় দেশীয় অস্ত্রসহ জাকির হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতাকে হাতেনাতে আটক করেছে গ্রামবাসী। গণধোলাইয়ের পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার সময় জাকির হোসেন নামে এক স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে গ্রামবাসী। উত্তেজিত জনতা তাকে হাত-পা বেঁধে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করে। অপরাধীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তার ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
গত রোববার (২১ জুন) গভীর রাতে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের পূর্বকাউয়ারচর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
আটক জাকির হোসেন (ইউপি সদস্য) এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।
বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ ও ধর্ষণচেষ্টা:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বকাউয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মালদ্বীপে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একই এলাকার জাকির হোসেন প্রায় রাতেই ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাকির হোসেন সুযোগ বুঝে ওই প্রবাসীর বাড়ির বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে আসেন। তাঁরা চারপাশ থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে যুবলীগ নেতা জাকিরকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং উঠানে এনে হাত-পা বেঁধে উত্তম-মধ্যম দেন।
ফাঁসির দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিল:
খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশের একটি দল সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে গণধোলাইয়ে আহত অভিযুক্ত জাকিরকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ যখন জাকিরকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোট হয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আটক জাকির হোসেন এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে খুন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি একটি মামলায় বর্তমানেও তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি রয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনগত ব্যবস্থা:
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধী রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে যে পরিচয়েরই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


