শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না: মির্জা ফখরুল

জামায়াতে ইসলামীকে রেজিমেন্টেড ও অগণতান্ত্রিক দল আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের উদারপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যায় না।

Jul 4, 2026 - 11:11
 0  2
শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না: মির্জা ফখরুল
×

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো গণতান্ত্রিক দল নয়, বরং তারা হচ্ছে একটি রেজিমেন্টেড পলিটিক্যাল পার্টি। তাদের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে এবং তারা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়। তারা দেশে শরিয়াহভিত্তিক একটি ইসলামি রাষ্ট্র তৈরি করতে চায়, যা মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সংস্কৃতি ও মনস্তত্ত্বের সঙ্গে যায় না; কারণ বাংলাদেশের মানুষ আজীবন উদারপন্থি রাজনীতি পছন্দ করে।

​শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মান্ধতা ও বিভ্রান্তি রুখে দেওয়ার আহ্বান:

​মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, “আমরা দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছি। কিন্তু আমাদের সামনে এখন আবার নতুন একটি শক্তি এসে দাঁড়িয়েছে। সেই শক্তিটি মূলত ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি—এটিই ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তারা আজ সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, বিশেষ করে আমাদের ধর্মপ্রাণ নারীদের বিভ্রান্ত করে ভোট ব্যাংকে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করে এই বিভ্রান্তি ও অপশক্তিকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার দায়িত্ব আপনাদের।”

​মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করেন যে, দেশের মানুষ ধর্মভীরু, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। আমাদের দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ আছে এবং সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে বাস ও কাজ করতে চায়। তাই ধর্মকে পুঁজি করে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে নেতাকর্মীদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে।

জুলাই সনদ ও জামায়াতের আন্দোলনের সমালোচনা:

​জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক আন্দোলন ও বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তারা খুব জোরেশোরে কথা বলছে এবং মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ—জুলাই সনদ নাকি আমরা মানিনি এবং গণভোটের রায়কে বাদ দিয়েছি। অথচ জুলাই সনদের প্রতিটি পাতায় যে কথাগুলো লেখা আছে, সেখানে পরিষ্কার করে বলা আছে যে, কয়েকটি রাজনৈতিক দল কোন বিষয় মেনেছে আর কয়েকটি দল কোন বিষয় মানেনি। আমরা স্পষ্টভাবে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি ও শব্দ মেনে চলছি এবং তা অবশ্যই পূরণ করব।”

​তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী যারা নির্বাচনে জয়ী হয়, সেই দলের নির্বাচনী ইশতেহার ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়। দেশের মানুষ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। ইশতেহারে আমরা জনগণের সামনে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করতে চাই। আমরা তাদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম; বলেছিলাম যে সংসদে যে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে আসুন এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন আনুন। কিন্তু তারা তা না করে ১১ দল নিয়ে রাস্তায় নামছে। অথচ রাস্তায় নেমেও তারা জনগণের কোনো সমর্থন পাচ্ছে না। তারা ঢাকায় বড় বড় সভা-সমাবেশ করার চেষ্টা করলেও সেখানে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির একেকটি ছোট মিটিং ডাকলেই তাদের চেয়ে দ্বিগুণ লোক জড়ো হয়।”

​বর্ধিত সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের আশাবাদী থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের হতাশা না আসে। বিএনপি সবসময় সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে। বিএনপি অতীতে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।