আমার স্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পর্যায়ক্রমে সবাই এই কার্ড পাবেন, এমনকি তার স্ত্রীও এর আওতায় আসবেন।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছাবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, "হতাশ হওয়ার কিছু নেই, পর্যায়ক্রমে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এমনকি নারী ডিসি-এসপি এবং আমার স্ত্রীও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। কারণ জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।" তিনি ফ্যামিলি কার্ডকে সাধারণ মানুষের শক্তি ও স্বাবলম্বী হওয়ার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন এবং এই কর্মসূচি সফল করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
নব্য গঠিত সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র ২২ দিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে এবং কৃষকদের জন্য 'কৃষি কার্ড' প্রবর্তন করা হবে, যার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
অতীতের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না, মানুষ নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা অর্থের বিনিময় ছাড়াই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০২৭ সাল নাগাদ স্থানীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এনডিসি এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। এছাড়াও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক উপকারভোগী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


