যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিতে থাকলে আলোচনায় বসবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক হুমকি অব্যাহত থাকলে কোনো ধরনের চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বক্তব্যের পর এই হুঁশিয়ারি এল।

Jul 7, 2026 - 12:06
 0  3
যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিতে থাকলে আলোচনায় বসবে না ইরান
×

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একের পর এক সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আর কোনো আলোচনায় বসবে না তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবে এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।

​ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তাঁর পোস্টে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের (MoU) ১৩ নম্বর ধারার আইনি বাধ্যবাধকতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

​‘নিজেদের স্বাক্ষরের মর্যাদা রক্ষা করুন’:

এক্স পোস্টে মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ করে আব্বাস আরাগচি বলেন, “হুমকি আর আলোচনা কখনো একসাথে চলতে পারে না। আগে নিজেদের স্বাক্ষরের মর্যাদা রক্ষা করতে শিখুন।” একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখ লাখ গর্বিত ইরানি নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি তাদের ইস্পাতকঠিন সমর্থনের প্রমাণ দিচ্ছেন। ফলে কোনো ধরনের হুমকিতে ইরানকে নমিত করা যাবে না।

ট্রাম্পের ‘এক ঘণ্টার’ ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি:

মূলত হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক চরম হুমকিসূচক বক্তব্যের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হলো। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র হয় খুব দ্রুত ইরানের সঙ্গে আমাদের শর্ত অনুযায়ী একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো আমরা আমাদের ‘অসমাপ্ত কাজ শেষ করব’।”

​হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “ইরান যদি চুক্তি না করে, তবে আমরা চাইলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের দেশের সব বড় বড় সেতু ধ্বংস করে দিতে পারি, তাদের সমগ্র জ্বালানি ও তেল সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল করে দিতে পারি। এখন এমনিতেও তাদের কাছে কোনো অর্থ নেই, কারণ আমরা তাদের কোনো ফান্ড দিইনি।”

​প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য অর্থনৈতিক ও সামরিক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকির পর দুই পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুনরায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।