হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি এমপি রেহানার
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরের’ চেয়ারে বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরের’ চেয়ারে বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অংশ নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।
বক্তব্যের শুরুতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, “মাননীয় স্পিকার, কিছুদিন আগে আমরা একটি ভয়ংকর আয়না ঘর দেখলাম। সেই আয়না ঘরে একটি ইলেকট্রিক চেয়ারও দেখা গেছে। যে চেয়ারে বসিয়ে বিগত স্বৈরাচারী আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও রাজবন্দিদের নির্মমভাবে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। আমার জোরালো দাবি, শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে ওই চেয়ারে বসাইয়া, শোয়াইয়া ঠিক একইভাবে ইলেকট্রিক শক দিতে হবে, মাননীয় স্পিকার।”
"দানব হাসিনা ফিরে এলে জীবন কালো করে ছাড়বে"
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার অনৈক্যের সমালোচনা করেন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আরেকটি সম্ভাব্য বিপ্লব ও আন্দোলনের ডাকের কথা উল্লেখ করে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই এমপি বলেন, “আপনাদের পারস্পরিক অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে—আল্লাহ না করুক, আল্লাহ না করুক, আল্লাহ না করুক—আবারও যদি দানব হাসিনা এ দেশে ফিরে আসে, তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা ফেসবুকের প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের প্রত্যেকের জীবন সে চিরতরে কালো করে ছাড়বে। তাই স্বৈরাচারের পুনর্বাসন ঠেকাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সরকারি হাসপাতালের নার্সদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা:
রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বিষয়েও সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রেহানা আক্তার রানু। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালের নার্সরা সাধারণ রোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ও অমানবিক আচরণ করেন।
দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নার্সদের আচরণগত পরিবর্তন ও দায়বদ্ধতা আনা জরুরি উল্লেখ করে এ বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


