সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ: তালিকায় খোদ সংসদ সদস্যরাও
জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বর্তমান সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।
দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলার মধ্যে জাতীয় সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল পরিমাণ ঋণের তথ্যও সামনে আনা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদ সদস্যদের ঋণ ও খেলাপি চিত্র
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান জাতীয় সংসদের সদস্য এবং তাঁদের মালিকানাধীন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আদালতের নির্দেশনা থাকায় এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা আপাতত খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কাইসার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা
সরকার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী দেশের শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো:
এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি.
এস আলম ভেজিট্যাবল অয়েল লি.
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লি.
এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লি.
সোনালী ট্রেডার্স
বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লি. (বেক্সিমকো)
গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি.
চেমন ইসপাত লি.
এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লি.
ইনফিনাইট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.
কেয়া কসমেটিকস লি.
দেশবন্ধু সুগার মিলস লি.
পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট লি.
পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্ট লি.
প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি.
কেরাণীগঞ্জ ফুডস (প্রা.) লি.
মুরাদ এন্টারপ্রাইজ
সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি
বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি.
রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।
খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর বার্তা
অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে ‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’ (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে যে বিশাল অংকের ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না, সেই আইনি বাধা দূর করতে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে সংসদে উল্লেখ করা হয়।


