পাটুরিয়াতে ২৪ হাজার লিটার তেলসহ লরি ডুবল পদ্মায়
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে ফেরি থেকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৪ হাজার লিটার তেলবোঝাই একটি লরি পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে ফেরি থেকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৪ হাজার লিটার তেলবোঝাই একটি লরি পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরি ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত নিমজ্জিত লরিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, যশোর থেকে ২৪ হাজার লিটার বাম্প অয়েল নিয়ে লরিটি (ঝিনাইদহ-ঢ ৪১-০০৪২) নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে নামে লরিটি। ফেরি থেকে পন্টুন হয়ে ঢালু সড়ক দিয়ে ওপরে ওঠার সময় হঠাৎ লরিটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন দিকে সরে গিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার তৎপরতা:
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লরির চালক শরীফ ও তার সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। লরিটি উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার এজিএম মো. সালাম হোসেন আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, যেখানে লরিটি নিমজ্জিত হয়েছে সেখানে পানির গভীরতা অনেক বেশি। ডুবুরিরা ক্রেনের সঙ্গে লরিটি বাঁধার চেষ্টা করছেন। পদ্ধতিগত কারণে উদ্ধার অভিযানে সময় লাগছে।
প্রশাসনের বক্তব্য:
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী। তিনি জানান, চালক ও সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুত লরিটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


