ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈষম্য দূর করতে এই উদ্যোগ।
সমাজের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ, ২০২৬) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা এমন কিছু মানুষ এখানে একত্রিত হয়েছেন, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মানুষ যাদের অন্তর থেকে সম্মান করে। জীবনের কঠিন মুহূর্তে মানুষ যাদের কাছে ভালো উপদেশের আশা করে। নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং অবহেলিত শ্রেণির মানুষের বৈষম্য দূর করতে কাজ করবো। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পালা। জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।”
ভাতার বিস্তারিত ও বন্টন:
পাইলট স্কিমের আওতায় এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক ইমাম ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পাবেন। এছাড়া মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের প্রধানদের ৫ হাজার এবং সহকারীদের ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আজ আইবাস (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানীর টাকা পাঠিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ আবদুল্লাহর হাতে চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হয়।
সামাজিক সম্প্রীতি ও মর্যাদা:
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেবল ইমাম-মুয়াজ্জিনই নন, এই প্রকল্পের আওতায় হিন্দু ধর্মের পুরোহিত ও সেবায়েত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। উৎসব ভাতা হিসেবে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে তাঁদের বিশেষ বোনাসও প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


