প্রেমিকার সঙ্গে ‘মনোমালিন্য’, রাবি ছাত্রের গলায় ফাঁস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে মতিহারের ‘আয়েশা টাওয়ার’ ছাত্রাবাস থেকে মাহফুজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা বলে ধারণা।

Jun 10, 2026 - 20:37
 0  3
প্রেমিকার সঙ্গে ‘মনোমালিন্য’, রাবি ছাত্রের গলায় ফাঁস
×

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন মতিহার এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে মাহফুজুর রহমান (২৩) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে প্রেমিকার সঙ্গে মুঠোফোনে তীব্র মনোমালিন্য ও মানসিক অবসাদের জেরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি মেস (ছাত্রাবাস) থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

​নিহত মাহফুজুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (দ্বিতীয় বর্ষ) নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্থায়ী বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফোনে কথা বলার পরই অঘটন, দরজা ভেঙে উদ্ধার:

​পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার বিকেলে মাহফুজুর রহমান ছাত্রাবাসে নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে মোবাইল ফোনে এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ওই তরুণী মাহফুজুরের আচরণে চরম উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই মেয়েটি তাৎক্ষণিকভাবে মাহফুজুরের এক সহপাঠীকে ফোন করে দ্রুত তাঁর কক্ষে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

​মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে মাহফুজুরের কক্ষের সামনে যান এবং ভেতর থেকে দরজা শক্ত করে বন্ধ পান। দীর্ঘক্ষণ ধরে ডাকাডাকি এবং দরজায় ধাক্কাধাক্কি করার পরও ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়া না পেয়ে শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। রুমে ঢুকেই তারা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

​সহপাঠীরা দ্রুত তাঁকে নামিয়ে উদ্ধার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশ, প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্য ও শিক্ষকেরা দ্রুত মেডিকেল সেন্টারে উপস্থিত হন।

৪ বছরের প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন:

​নিহত মাহফুজুর রহমানের এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “একটি মেয়ের সঙ্গে গত চার বছর ধরে মাহফুজের গভীর প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি ও জটিলতা তৈরি হলেও পরে তা মিটে যায়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের মধ্যে আবারও নতুন কোনো বড় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরেই মাহফুজ তীব্র মানসিক বিপর্যস্ততা ও বিষণ্নতায় ভুগছিল।”

​রাবির প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সন্ধ্যায় জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ, শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে লাশ নামানো হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে এটিকে স্পষ্ট আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং কক্ষ থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে আত্মহত্যার মূল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশ গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।”

​রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবীর জানান, “লাশের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। বাহ্যিক আলামতে এটি একটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে লাশটি রাবি মেডিকেল সেন্টারের ফ্রিজিং ভ্যানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা রওনা হয়েছেন, তারা এলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”