এ জাতিকে কখনো বিভাজন করা সম্ভব নয় : রিজভী

বাংলাদেশকে কৃত্রিমভাবে বিভাজন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সব ধর্মের মানুষকে এক হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।

Jul 3, 2026 - 19:07
 0  4
এ জাতিকে কখনো বিভাজন করা সম্ভব নয় : রিজভী
×

বর্তমানে বাংলাদেশে একটি সম্পূর্ণ মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নির্বিঘ্নে সবাই সবার মতামত প্রকাশ করতে পারছে, যা বিগত বহু বছর এ দেশে ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

​তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “কৃত্রিমভাবে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস হলো—সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ সবসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে লড়াই করে অভ্যস্ত। তাই এই মহান জাতিকে কখনো কোনো অপশক্তি দিয়ে বিভাজন করা সম্ভব নয়।”

​আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই বিপ্লবের রক্তে নেই কোনো বিভেদ:

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের সব মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একসঙ্গে রাজপথে লড়াই করেছে। চব্বিশের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনে শুধু মুসলিমরাই বুক পেতে দেয়নি বা গুলি খায়নি; হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষই সেদিন সমানভাবে গুলি খেয়েছে এবং দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে। যেহেতু রক্তে কোনো বিভেদ ছিল না, তাই নতুন দেশ গঠনেও এখন আমাদের সবাইকে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

ভোটাধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ:

দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর অবশেষে জনগণের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার এবং একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। সরকারপ্রধানও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরলসভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ করে যাচ্ছেন। এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকল্প নেই।

নেতাকর্মীদের উপস্থিতি:

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংহতি ও আলোচনাসভায় ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বাংলাদেশে স্থায়ী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।