জামায়াত কি এখন শাহবাগীদের মতাদর্শিক প্রতিনিধিত্ব করছে?— প্রশ্ন সগির চৌধুরীর
নারীদের পোশাক নিয়ে জামায়াত এমপি মারদিয়া মমতাজের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সগির চৌধুরী। ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতের মতাদর্শিক অবস্থান নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন।
নারীদের পোশাক পরিধান ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংগঠক সগির চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জামায়াত এমপির এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে দলটির বর্তমান রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু কড়া প্রশ্ন তুলেছেন।
সম্প্রতি জামায়াত এমপি মারদিয়া মমতাজ এক বক্তব্যে বলেন, “এটাই বাংলাদেশ। নারীরা কে কী পড়লো সেটা নির্ধারণের দায়িত্ব আল্লাহ কাউকে দেননি। আপনার ভালো না লাগলে চুপচাপ মাথা নীচু করে সেখান থেকে সরে পড়বেন। এটাই বাংলাদেশ।”
মারদিয়া মমতাজের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সগির চৌধুরী তাঁর ফেসবুক পোস্টে যে কড়া সমালোচনা ও প্রশ্নগুলো তুলে ধরেছেন, তা নিচে হুবহু উপস্থাপন করা হলো:
ওলামাদের ভূমিকা ও ভিলেন বানানোর অপচেষ্টা:
সগির চৌধুরী তাঁর পোস্টে প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমাদের ওলামায়ে কেরাম নর-নারী উভয়ের পর্দা-পুশিদার ব্যাপারে ওয়াজ-নসীহত করেন ঠিক আছে, কিন্তু তাঁরা কি কখনো বেপর্দা নারীর ব্যাপারে সহিংস হতে শিক্ষা দিয়েছেন? তাহলে আপনি কাকে নসীহত করছেন যে, ‘চুপচাপ মাথা নীচু করে চলে যান?’ একথা কার উদ্দেশে?”
তিনি আরও লেখেন, “জাতে উঠার জন্য পশ্চিমাদের পদলেহন করতে চাইলে করেন, আমাদের আপত্তি নেই তাতে। কিন্তু ভিলেন বানাতে চাচ্ছেন কাকে? আপনার নিশানায় কে?”
বক্তব্যের যোগ্যতা ও শাহবাগীদের সাথে তুলনা:
জামায়াত এমপির বক্তব্যটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সগির চৌধুরী প্রশ্ন করেন, “আপনার বক্তব্য রাজনৈতিক নাকি ধর্মীয়? বক্তব্য যদি ধর্মীয় হয় তবে আপনি কে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার? আপনার কী যোগ্যতা? কী উপযুক্ততা? আর বক্তব্য যদি রাজনৈতিক হয় তবে আপনি ও শাহবাগীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? এসব বক্তব্য তো একজন শাহবাগীদের মুখেই শোভা দেয়? আপনি বা আপনারা কি এখন সেই কুখ্যাত শাহবাগীদের মতাদর্শিক প্রতিনিধিত্ব করছেন? তাও আমার ধর্মীয় দলের মোড়কে?”
জামায়াতের সমালোচনা ও জনসমর্থন প্রসঙ্গ:
যাঁরা জামায়াতের সমালোচনা না করার পরামর্শ দেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে সগির চৌধুরী বলেন, “অনেকে আমাকে নসীহত করেন, জামায়াতের সমালোচনা করেন কেন? নিজের চরকায় তেল দিন। নিজের চরকায় তেল দেওয়ার কথা বাজারে ক্যানভাস করে বলার কিছু নেই। কিন্তু জামায়াতের সমালোচনা করলে সেটাতে তাদের ক্ষতি কী? যদি ক্ষতিই হয়, তবে সেই ক্ষতিটা না হওয়া তো জামায়াতেরই অ্যাজেন্ডা। আমি তো জামায়াতের অ্যাজেন্ট নই যে, জামায়াতের ক্ষতি হচ্ছে কিনা সেটা আমাকে দেখতে হবে!”
তিনি দলটির জনসমর্থন ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া ভাষায় লেখেন, “বলা হয় যে, সমালোচনায় নিজের জনসমর্থন কমে যায়। সেটাও কতটুকু বাস্তব? জাশি এতো বটবাজি করল, মানুষের নামে মিথ্যা তোহমত দিল, শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপবাদ দাঁড়ালো। এদের পরিস্থিতি তো এমন দাঁড়িয়েছে যে, সেই ঘোরে খোদ মহান জাতীয় সংসদে অবলীলায় মিথ্যা চলে আসে মুখ থেকে। কই তাদরে তো জনসমর্থন বেড়েছে, কমেছে কোথায়? এই মিথ্যার বেসাতি করেই তো সত্তরের কাছাকাছি আসন তারা পেল। জনসমর্থন কমে কই?”


