রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে যা জানালেন সাকিব: ‘দলের কার্যক্রম শুরু হলে আবার ফিরব’
রাজনীতি ও ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম শুরু হলে তিনি আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং সক্রিয় রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্র থেকেই বর্তমানে অনেকটা দূরে রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ প্রবাস জীবন এবং আইনি জটিলতার মধ্যে এক ভিন্নধর্মী সময় পার করছেন তিনি। সম্প্রতি একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবন, দেশে ফেরা এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
দেশে ফেরা নিয়ে আশাবাদ
দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সাকিব জানান, তিনি একজন আশাবাদী মানুষ এবং বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই আমি দেশটাকে ভীষণ মিস করছি। আইনি বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান হবে, তত দ্রুত আমি ফিরতে পারব। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলতে।”
রাজনীতি ও ক্রিকেটের অগ্রাধিকার
সাবেক এই সংসদ সদস্য তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি তো আমৃত্যু করা যায়, অনেক সময় আছে। কিন্তু ক্রিকেটের সময় ফুরিয়ে আসছে, তাই আগে ক্রিকেটটা ঠিক করার চেষ্টা করছি।” তবে রাজনীতিতে ফেরার দরজা বন্ধ করেননি তিনি। সাকিব যোগ করেন, “যেহেতু বর্তমানে আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নেই, তাই ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। দলের কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারব, তখন হয়তো আবার রাজনীতি করার চেষ্টা করব।” ### জুলাই অভ্যুত্থান ও বিচার প্রক্রিয়া
জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সাকিব বলেন, “প্রতিটি মৃত্যুই বেদনাদায়ক এবং প্রতিটি জীবন অমূল্য। আমি চাই প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হোক। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কাউকে যেন অন্যায়ভাবে ফাঁসানো না হয়।” তিনি আরও মনে করেন, কাউকে দূরে সরিয়ে রেখে দেশে প্রকৃত স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এবং এটি গণতান্ত্রিক ধারার পরিপন্থী।
বর্তমান জীবন ও ভবিষ্যৎ দর্শন
বর্তমানে পরিবারকে ‘কোয়ালিটি টাইম’ দিচ্ছেন জানিয়ে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, এই বিরতি তাঁকে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। ভবিষ্যতে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং জনগণই তাঁদের প্রতিনিধি বেছে নেবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন এই তারকা ক্রিকেটার।


