রামপুরার শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশের মৃত্যু

রাজধানীর রামপুরায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে আট দিন কোমায় থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

Jun 20, 2026 - 13:07
 0  4
রামপুরার শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা পলাশের মৃত্যু
×

রাজধানীর রামপুরা এলাকার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’ (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাত পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিহতের স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন।

​আজ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান কাইল্যা পলাশের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

দিনদুপুরে নামাজ শেষে ফেরার পথে হামলা:

তদন্তসংশ্লিষ্ট ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন (শুক্রবার) রামপুরা টেলিভিশন সেন্টারের ঠিক বিপরীত পাশে জুমার নামাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে কাইল্যা পলাশকে লক্ষ্য করে দিনদুপুরে এলোপাতাড়ি গুলি ছাড়ে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে গত রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ আট দিন লাইফ সাপোর্টে (কোমা) থাকার পর শুক্রবার রাতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য:

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কাইল্যা পলাশের ওপর এই সুপরিকল্পিত ও প্রকাশ্য হামলার নেপথ্যে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় ক্যাঙ্গারু মার্কেট ও কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ এবং পুরোনো গ্যাংস্টারদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

​পলাশ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরদিন (১৩ জুন) তাঁর স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় ঢাকার আরেক পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘জিসান’ সহ ১১ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে পলাশের মৃত্যুর পর এই মামলাটি এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরাসরি ‘হত্যা মামলায়’ রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

​হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, চাঞ্চল্যকর এই হামলার ঘটনার পরপরই মাঠে নামে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।