ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন?

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিসহ ৫ জনের নাম আলোচনায় এসেছে। বিস্তারিত বিশ্লেষণে সিএনএন।

Mar 1, 2026 - 11:16
 0  104
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন?
×

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। ইরানের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (Assembly of Experts) পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবে। বর্তমানে এই পদের জন্য ৫ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।

১. মোজতবা খামেনি (৫৬):

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বিশেষ করে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি ও বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ওপর তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশগত উত্তরাধিকার প্রথাকে সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়। এছাড়া তিনি খুব উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত না হওয়া এবং প্রশাসনে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকা তার জন্য বাধা হতে পারে।

​২. আলীরেজা আরাফি (৬৭):

তিনি খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত। আরাফি বর্তমানে ইরানের আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। তিনি ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ততটা গভীর নয়।

৩. মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি (৬০):

একজন কট্টরপন্থি আলেম হিসেবে পরিচিত মিরবাঘেরি ইরানের কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য। তিনি তীব্রভাবে পশ্চিমাবিরোধী এবং বিশ্বাসী মুসলিমদের সাথে অন্যদের অনিবার্য সংঘাতের তত্ত্বে বিশ্বাস করেন। তিনি বর্তমানে ‘কোম’ শহরের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান হিসেবে রক্ষণশীল আলেমদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

​৪. হাসান খোমেনি (৫০):

ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি বর্তমানে খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষক। তিনি অন্যদের তুলনায় কিছুটা নমনীয় মনোভাবের হিসেবে পরিচিত। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তার প্রভাব তুলনামূলক কম এবং প্রশাসনিক বড় কোনো পদেও তিনি ছিলেন না।

৫. হাশেম হোসেইনি বুশেহরি:

ষাটোর্ধ্ব এই জ্যেষ্ঠ পণ্ডিত ইরানের আলেম পরিষদের এক নম্বর উপ-চেয়ারম্যান। খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার যোগাযোগ খুব একটা দৃঢ় নয়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ গোপন ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবেন। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর (আইআরজিসি) সমর্থন যার দিকে থাকবে, তিনিই পরবর্তী নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

​সূত্র: সিএনএন।