ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা কি কেবলই ‘রাষ্ট্রীয় আচার’? ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্যে তোলপাড়

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোকে ‘স্রেফ রাষ্ট্রীয় আচার’ বলে অভিহিত করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভাষা শহীদের প্রতি এমন যান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।

Feb 21, 2026 - 12:15
 0  7
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা কি কেবলই ‘রাষ্ট্রীয় আচার’? ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্যে তোলপাড়
×

বিশ্বের যেকোনো জাতির কাছে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন পরম আবেগ ও হৃদয়ের টানের বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে এটি যেন কেবলই একটি দাপ্তরিক দায়িত্ব বা ‘রাষ্ট্রীয় আচার’। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তাঁর করা মন্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

দায়িত্ব পালনের দায়, নাকি প্রাণের টান?

​শহীদ মিনারে ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি।” তার এই বক্তব্যে ‘দায়িত্ব’ এবং ‘আচার’ শব্দ দুটির অতি-ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও বিশ্লেষকরা। সমালোচকদের মতে, অমর একুশের চেতনা যেখানে বাঙালির অস্তিত্বের শেকড়, সেখানে একে স্রেফ একটি ‘আচার’ (Ritual) হিসেবে অভিহিত করা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম উদাসীনতা ও যান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।

​ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের কার্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। ভাইরাল হওয়া কিছু প্রতিক্রিয়ার সারমর্ম হলো:

​যান্ত্রিকতা বনাম আবেগ: অনেকেই বলছেন, “আসতে হবে তাই এসেছি”—এমন দায়সারা মন্তব্য করে তিনি প্রমাণ করেছেন শহীদ মিনারের বেদিতে তাঁর উপস্থিতি যতটা না ভালোবাসার, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার।

​শব্দচয়নে অবজ্ঞা: একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “শহীদ মিনার কোনো উৎসবের স্টেজ নয় যে সেখানে ‘আচার’ পালন করতে হবে। এটি বাঙালির আবেগের পবিত্র স্থান। এমন যান্ত্রিক শব্দ ব্যবহার করে তিনি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বকেই খাটো করেছেন।”

​রাজনৈতিক কৌশল: বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের আদর্শিক বিরোধের পর রাজনৈতিক ইমেজ পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও, শব্দচয়নে এমন ‘কোল্ড’ বা শীতল মনোভাব শহীদ মিনারের প্রতি তাঁর অনীহাকই স্পষ্ট করে দিয়েছে।

​পেশাদারিত্বের আড়ালে কৌশলী অবস্থান?

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল রক্ষা করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান সম্ভবত তাঁর দলের কট্টর সমর্থকদের বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, এটি স্রেফ একটি আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এই ‘আচার’ শব্দটি শহীদদের প্রতি এক ধরনের ‘পেশাদারী অবজ্ঞা’ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

​সব মিলিয়ে, ভাষা শহীদদের প্রতি প্রাণের টান না থাকলে কেবল রাজনৈতিক ‘আচার’ পালনে শহীদের আত্মা কতটা শান্তি পায়—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশজুড়ে।