হলফনামায় সম্পদ ২ কোটি, হাজার কোটি টাকায় ‘নগদ’ কিনতে চান ব্যারিস্টার আরমান
হলফনামায় মাত্র ২ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েও হাজার কোটি টাকার প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যারিস্টার আরমান। তার এই চিঠিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
নির্বাচনী হলফনামায় নিজের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছিলেন মাত্র ২ কোটি টাকা। অথচ এখন তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ কিনতে বা এতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইছেন। তিনি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দেওয়া তাঁর একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
চিঠিতে কী প্রস্তাব দিয়েছেন আরমান?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর একটি চিঠি দেন ব্যারিস্টার আরমান। চিঠির মূল বিষয় ছিল—ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নির্ধারণের জন্য ‘নগদ ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’-এ অডিট বা নিরীক্ষা পরিচালনার অনুমতি প্রদান।
গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে আরমান উল্লেখ করেন, তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে একটি ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। তিনি চিঠিতে বলেন:
‘আমি জানতে পেরেছি, বিগত সরকারের আমলের নানা অব্যবস্থাপনার কারণে নগদ বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ প্রশাসনাধীনে রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে এটি নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আমি ও আমার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রস্তুত।’
তবে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বুঝতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ফরেনসিক অডিট’ করার অনুমতি চেয়েছেন তিনি।
বিনিয়োগের উৎস নিয়ে চাঞ্চল্য
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নগদের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নেওয়া বা বিনিয়োগের আকার হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এর মধ্যে শুধু প্রযুক্তিগত (টেকনোলজি) খরচই রয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মতো। হলফনামায় মাত্র ২ কোটি টাকার সম্পদ থাকা একজন ব্যক্তির এমন বিপুল অংকের বিনিয়োগ প্রস্তাবকে ঘিরে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই ২ কোটি টাকার সম্পদের মালিকের ১০০০ কোটি টাকার অফারকে ব্যঙ্গ করে বলছেন— ‘হলফনামায় ২ কোটি, আর বাস্তবে ১০০০ কোটির অফার! এমন সততা দেখে আমরা তো মাননীয় স্পিকার হয়ে গেলাম।’
ব্যারিস্টার আরমানের পরিচয় ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। ২০১৬ সালে তিনি গুমের শিকার হন এবং দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘর’-এ বন্দি থাকার পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুক্তি পান।
অন্যদিকে, বিগত সরকারের পতনের পর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ‘নগদ’-এর পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রশাসক বসায় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি ও আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রকৃত উৎস এবং ওই রহস্যময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পরিচয় নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছতা ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্নের মুখে ব্যারিস্টার আরমান বা বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।


