পরিকল্পিতভাবে গার্মেন্টস সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: শেখ ফজলে বারী মাসউদ
গার্মেন্টস সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার পেছনে পতিত ও পরাজিত গোষ্ঠীর চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।
রেমিট্যান্স আহরণের অন্যতম প্রধান খাত দেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।
তিনি বলেন, “পতিত ও পরাজিত গোষ্ঠীর একটি চক্র দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গার্মেন্টস সেক্টরকে বেছে নিয়েছে। তাদের এই তৎপরতা রুখে দিতে হবে।”
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় বাড্ডার ভাটারা থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক দায়িত্বশীল তারবিয়ত (প্রশিক্ষণ) কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিক ছাঁটাই ও ষড়যন্ত্রের ধরন:
পোশাক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, “ঈদের আগে শ্রমিকদের সামান্য কিছু বেতন-বোনাস দিয়ে ছুটিতে পাঠানো হয়। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে শ্রমিকরা কাজে ফিরে দেখে কারখানার গেটে তালা ঝুলছে এবং অনিবার্য কারণবশত গার্মেন্টস বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়েছে। কোথাও কোথাও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের দীর্ঘ তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো কারখানায় আধুনিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি ব্যবহারের অজুহাতে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এর ফলে বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন করছেন। ঈদের পর থেকে মিরপুর-১৪, কাফরুল, সাভার ও আশুলিয়ার বেশ কিছু গার্মেন্টসে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিবরণ:
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভাটারা থানা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন থানা শাখার সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর আলোকপাত করার পাশাপাশি অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—মুফতি নিজাম উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদ, শানু ইসলাম, আলহাজ্ব আবু বকর ও রহমতুল্লাহ প্রমুখ।


