মধুপুরে ছাগল ছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পরিত্যক্ত একটি কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল ছানা উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাবা-ছেলেসহ গারো নৃ-গোষ্ঠীর ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

Jun 20, 2026 - 12:30
 0  4
মধুপুরে ছাগল ছানা বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
×

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল ছানা উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সকলেই স্থানীয় গারো নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য এবং এদের মধ্যে একই পরিবারের বাবা ও ছেলেও রয়েছেন। অক্সিজেনহীন গভীর কূপে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

​আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকি বাজার এলাকায় এই শোকার্ত ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কূপ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে।

​নিহতরা হলেন— টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমা (৪০), তাঁর ১২ বছর বয়সি ছেলে নেইমার ম্রং, এলাকার জামাতা গাব্রিয়াল (৪০) এবং প্রতিবেশী যুবক রতন নকরেক (২৭)।

যেভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য লাল মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল ছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি গভীর পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগল ছানাটি জীবিত উদ্ধার করতে প্রথমে কূপে নেমে যায় বাবুল হাদিমার ১২ বছরের ছেলে নেইমার।

​বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও কূপের ভেতর থেকে নেইমারের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে দ্বিতীয়বার কূপে নামেন বাবা বাবুল হাদিমা। কিন্তু তিনিও কূপে নামার পর অচেতন হয়ে পড়েন। বাবা-ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁদের বাঁচাতে একে একে কূপে নামেন গাব্রিয়াল এবং সর্বশেষ প্রতিবেশী রতন নকরেক।

​কূপে নামা চারজনের কারও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরবর্তীতে অবস্থা বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও মধুপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান:

মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কূপটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত হওয়ায় সেটি অক্সিজেনহীন এবং বিষাক্ত গ্যাসে পরিপূর্ণ ছিল। আমাদের ফায়ার ফাইটার মনিরুজ্জামান বিশেষ অক্সিজেন মাস্ক ও প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোর্ট সরঞ্জাম নিয়ে কূপে নামেন। এরপর সকাল ৯টার মধ্যে একে একে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসা হয়।”

​মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, “ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে চারজনের মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”