ইসরাইলি হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে হিজবুল্লাহ

ঘোষিত যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ। যেকোনো হামলার যোগ্য জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি তাঁর।

Jun 20, 2026 - 18:50
 0  3
ইসরাইলি হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে হিজবুল্লাহ
×

আন্তর্জাতিক মহলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে লেবাননের স্বাধীন ভূখণ্ডে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ। এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং যেকোনো উসকানিমূলক হামলার যোগ্য জবাব দেওয়ার ‘পূর্ণ ও আইনগত অধিকার’ হিজবুল্লাহর রয়েছে।”

​আজ শনিবার (২০ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, “চারিদিকে যখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে, তখন আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো শত্রুপক্ষ যেন এই যুদ্ধবিরতিকে সম্পূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে সম্মান জানায়। তারা যেন আমাদের সার্বভৌম দেশ ও সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে নতুন করে কোনো হামলা চালানোর চেষ্টা না করে এবং কোনো নতুন অবস্থান বা ভূখণ্ড দখলের ধৃষ্টতা না দেখায়।”

যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টার মাথায় ইসরাইলি আগ্রাসন:

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৯ জুন) মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিনই লেবাননের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা ও স্থাপনায় ইসরাইলি বিমান বাহিনী নতুন করে সামরিক তৎপরতা ও বোমাবর্ষণ শুরু করে। ইসরাইলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের পরই হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।

​হাসান ফাদলাল্লাহ তাঁর বিবৃতিতে আরও যোগ করেন, “ইসরাইল এখানে স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী, আক্রমণকারী এবং দখলদার শক্তি। ফলে তারা যখনই লেবাননের নিরীহ মানুষের ওপর আঘাত হানবে, তখনই এই শত্রুর মুখোমুখি বীরত্বের সাথে দাঁড়ানো এবং নিজেদের পবিত্র ভূখণ্ড রক্ষা করার সম্পূর্ণ আইনগত ও নৈতিক অধিকার এই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রয়েছে।”

চরম উত্তেজনার মুখে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি:

লেবাননের স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় তেল আবিবের এই চরম আগ্রাসী মনোভাব ও চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা সীমান্ত অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আবারও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এই কড়া বার্তা মূলত তারই ইঙ্গিত বহন করছে যে—যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।