আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান
খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আধিপত্যবাদ রুখতে যুবসমাজকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান সরকার যদি কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির সামনে মাথা নত করে, তবে তাদের ছেড়ে কথা বলা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আধিপত্যবাদ রুখতে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের মর্যাদা রক্ষায় যুবসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ‘১১ দলীয় ঐক্য’ আয়োজিত এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘কালো হাত বাড়িয়ে দিলে তা ভেঙে দেওয়া হবে’
সীমান্তের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সীমান্তে আজ নানা উসকানি দেওয়া হচ্ছে। ‘পুশইন’-এর নামে একটি প্রতিবেশী দেশ তাদের নাগরিকদের আমাদের দেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আমাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) যখন সীমান্তে শক্ত হয়ে দাঁড়ায়, দেশের জনগণ তখন তাদের শক্তিতে পরিণত হয়।”
প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম ও শান্তি হারাম হোক। একইভাবে কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে কালো হাত বাড়াবে, সেটাও আমরা বরদাশত করব না। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, যদি কেউ কালো হাত বাড়ায়, তবে দেশের ২০ কোটি মেহনতি মানুষের শক্তি নিয়ে সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।”
ক্ষমতার জন্য নয়, এই বিপ্লব মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর
তরুণ ও যুবসমাজকে লক্ষ্য করে জামায়াত আমির বলেন, “আগামী দিনের এই সম্ভাব্য বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। এই বিপ্লব হবে কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইজ্জত ও সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য।” এ সময় তিনি একটি সুস্থ, দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “তারা বৈষম্যহীন সমাজ, হত্যা ও লুণ্ঠনের রাজনীতি বন্ধের ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রতিটি ওয়াদা লঙ্ঘন করেছিল। রাষ্ট্রের সব বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে মানুষ খুন করা হয়েছে, তৈরি করা হয়েছিল ‘আয়নাঘর’। ব্যাংক, বিমা ও শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠন করে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যারা একসময় দম্ভ করে বলতেন ‘হাসিনা পালায় না’, শেষ পর্যন্ত তীব্র জনস্রোতের মুখে সেই হাসিনাকেই অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। দুপুরের ভাত খাওয়ার রিজিকটুকুও আল্লাহ তাঁর জন্য এই মাটিতে রাখেননি। গত ১৫ বছর যাদের সেবাদাসী হিসেবে কাজ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁদের কোলেই গিয়ে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়েছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি জনগণের কোনো ন্যায্য ফয়সালা সংসদে না হয়, তবে পল্টন, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী কিংবা খুলনার জনসভা থেকে যে গণজাগরণ তৈরি হবে, সেই জাগরণী জনমতই একদিন সরকারে পরিণত হবে।
শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ:
১১ দলীয় ঐক্যের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।
সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন— এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।


