কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমপি নিলুফা চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জমিয়তের

কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফা চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

Jun 22, 2026 - 11:27
 0  3
কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমপি নিলুফা চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জমিয়তের
×

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফা চৌধুরীর জাতীয় সংসদে দেওয়া কওমি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গ সংবলিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই বক্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।

​রোববার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে জমিয়তের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এই প্রতিবাদ জানান।

নাগরিক অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির দাবি:

​বিবৃতিতে জমিয়ত নেতারা বলেন, কওমি আলেম-উলামা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কোনো বিচ্ছিন্ন বা বিশেষ গোষ্ঠী নয়; তারা এ দেশেরই সম্মানিত নাগরিক এবং সংবিধানপ্রদত্ত সমান অধিকার ভোগ করেন। রাষ্ট্রীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্যান্য নাগরিকের মতো তাদের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। তাই কোনো জনগোষ্ঠীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে তারা রাষ্ট্রের মূলধারা থেকে আলাদা বা বিশেষ সুবিধাভোগী হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

​তারা আরও উল্লেখ করেন, একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু নিলুফা চৌধুরীর মন্তব্য কওমি অঙ্গনের মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো শ্রেণি-পেশা বা শিক্ষাধারার মানুষকে খাটো না করে সবার মর্যাদা রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব ছিল।

বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান:

​জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাধারণত মানুষের অনুভূতি ও প্রত্যাশা সম্পর্কে অধিক সংবেদনশীল থাকেন। সংরক্ষিত আসনের এই সংসদ সদস্যের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশিত ছিল।

​বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও এ দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় বরাবরই স্বমহিমায় এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তারা নিলুফা চৌধুরীকে তাঁর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে কওমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আলেম সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বিভেদ তৈরি না করে ঐক্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।