একাত্তরের পর জুলাই সবচেয়ে বড় রেডলাইন: মোস্তফা সারয়ার ফারুকী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একাত্তরের পর দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘রেডলাইন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এই ইস্যুতে ছাত্রদল সভাপতির স্পষ্ট অবস্থানের প্রশংসাও করেন তিনি।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজের দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। জুলাই বিপ্লবকে মহান একাত্তরের পর এ দেশের মানুষের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘রেডলাইন’ (সীমানা) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সাথে জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং এর কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ভূয়সী প্রশংসাও করেন ফারুকী।
রাজনীতিকদের প্রতি ফারুকীর বার্তা:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লেখেন:
“কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেডলাইন ক্রস করা দূরে থাক, টাচও করা উচিত না। একাত্তর আমাদের সবচেয়ে বড় রেডলাইন। এর পরে এই জমিনের মানুষের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থান জুলাই। এটা আমাদের আরেকটা রেডলাইন।”
তিনি মূলধারার রাজনীতিবিদদের সতর্ক করে আরও লেখেন, “জুলাই যে কেবল সাধারণ একটা সরকার বদল ছিল না, বরং তা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় রায়— এটা যদি মেইনস্ট্রিম রাজনীতিবিদরা না বোঝেন, তাহলে তো সত্যিই মুশকিল।”
ছাত্রদল সভাপতির প্রশংসা:
সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজ দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য নিলোফার মনির একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানান ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ছাত্রদল সভাপতির এমন সময়োপযোগী ও সাহসী অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়ে ফারুকী পোস্টে বলেন, “এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং এর সভাপতি রাকিবুল ইসলামকে অ্যাপ্রিশিয়েট (প্রশংসা) করতেই হবে।”
‘যারা জুলাইকে বুঝবে না, তারা দেউলিয়া হবে’:
নতুন প্রজন্মের শক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই প্রখ্যাত নির্মাতা লেখেন, “যেই তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশের বুকে জুলাই এনেছে, তাদের সংখ্যা, ক্ষমতা এবং নেটওয়ার্ক বুঝতে কিছু কিছু মানুষ ব্যর্থ হচ্ছে। এই নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা যারা বুঝতে পারবে, তারাই আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতি তৈরি করবে। আর যারা পারবে না, তারা রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে পড়বে।”
পোস্টের শেষাংশে নিজের বক্তব্যের ওপর আত্মবিশ্বাসের সুরে ফারুকী লেখেন, “লিখে রাখতে পারেন আমার এই কথাটা।”
উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন নিয়ে দলমতনির্বিশেষে ছাত্রদল সভাপতির দৃঢ় অবস্থান সব মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে, যারই রেশ ধরে ফারুকীর এই ফেসবুক পোস্ট আজ নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


