আমাদের নেতাকর্মীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকালে খবর আছে

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন বিরোধীদল ও প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Jun 21, 2026 - 14:47
 0  4
আমাদের নেতাকর্মীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকালে খবর আছে
×

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন। বিরোধীদলের উদ্দেশ্য তিনি বলেছেন, “আপনারা আমাদের নেতাকর্মীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকালে আপনাদের খবর আছে। এটা কোনোভাবেই বরদাশত বা টলারেট করা হবে না।” একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ তোষণকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

​গত শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় কুমারখালীর স্থানীয় ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​‘সুখে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, এইটাই তো বেশি’

বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে ইঙ্গিত করে এমপি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা কি অতীতে বিরোধী দলে ছিলাম না? আমরা তো তখন রাজনীতি করার ন্যূনতম স্পেসও পাইনি। আর এখন আপনারা সুখে শান্তিতে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে ঘরে ঘুমাচ্ছেন। এইটাই তো বেশি। আবার কিসের ভাগ চান, কিসের মাথায় উঠতে চান? একদম সোজা রাস্তায় হাঁটবেন, আরামে থাকেন, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনকে আলটিমেটাম ও একশনের হুঁশিয়ারি:

দলীয় নেতাকর্মীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার নেতাকর্মীরা দীর্ঘ বছর বঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়েছে। এখনও যদি কোনো প্রশাসন আপনাদের পাত্তা না দেয় বা নির্যাতনের হুমকি দেয়, তাদের উদ্দেশ্যে আমি স্পষ্ট বলতে চাই—কুমারখালী-খোকসাতে যদি চাকরি করতে হয়, তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই।”

​তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রশাসনকে আমরা বলবো না যে আপনি কারও ফেভারে (পক্ষে) কাজ করেন। আপনারা জনগণের সঙ্গে থাকবেন, জনগণের ভালোমন্দ চিন্তা করবেন। তাই বলে বিএনপিকে নির্যাতন করবেন, এটা আমি টলারেট করব না। যদি কোনো কর্মকর্তা এই ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র করে আমাদের নেতাকর্মীদের নির্যাতিত করতে চায়, তবে তাকে এই এলাকায় রাখা হবে না। এমপি হিসেবে আমি তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হবো।”

​বিগত সরকারের আমলের কর্মকর্তাদের দিকে আঙুল তুলে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “আমার নেতাকর্মীরা ২০ বছর নির্যাতিত হয়েছে, আপনারা তো তখন সুখেই ছিলেন। কেন এখন আবার সেই আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করছেন? কিসের আওয়ামী লীগ? আওয়ামী লীগ তো ব্যান (নিষিদ্ধ)। সেই আওয়ামী লীগকে কেন মাথায় তুলে আপনারা নাচবেন? এটা আমি কুমারখালীর মাটিতে হতে দেব না।”

নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি:

উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জিলাল, কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম লিপন এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আলম টমেসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।