সংস্কার ও বিচার না হলে জুলাইয়ের রক্তের সাথে গাদ্দারি করা হবে: চরমোনাই পীর

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত না হলে তা শহীদানদের রক্তের সাথে গাদ্দারি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই।

Jul 2, 2026 - 20:03
 0  4
সংস্কার ও বিচার না হলে জুলাইয়ের রক্তের সাথে গাদ্দারি করা হবে: চরমোনাই পীর
×

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা তথা রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে তা আন্দোলনকারীদের উৎসর্গিত জীবন ও রক্তের সাথে চরম গাদ্দারি হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

​তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কেবলই একটি সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, কিংবা এটি কোনো সাধারণ ক্ষমতার পালাবদলও ছিল না; বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক शासन ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহ এবং স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপের সংগ্রাম।”

​গত বুধবার (১ জুলাই) রাতে বরিশালের চরমোনাইতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ নতুন সচিব পর্ষদের নেতৃবৃন্দের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় বৈঠকে আমীরে শরীয়ত এসব কথা বলেন।

আইনে বিদ্যমান সুযোগেই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম:

আইন ও শাসন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলিয়ে বাংলাদেশে বারবার স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় উল্লেখ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা সেই আইনি ফাঁকফোকর ও কালো আইনগুলোর স্থায়ী বিলোপ চেয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত হতাশাজনক সত্য হলো, জুলাইয়ের রক্তের পথ ধরে যে নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে, সেখানে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের আলোচনার কোনো কার্যকর স্থান বা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, জুলাইয়ের শহীদদের কেবল লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ না করে, তাদের প্রত্যাশামাফিক আইনি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সাধন করাই এখন প্রধান কাজ।”

পতিত ফ্যাসিবাদের অনুতাপ নেই, বিচার থমকে আছে:

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের মধ্যে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য কোনো অনুতাপ বা অনুশোচনা নেই; বরং তাদের মধ্যে জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে গভীর প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িতদের ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদেরকে অবিলম্বে কঠোর বিচারের আওতায় আনতেই হবে। বর্তমানে বিচার কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”

বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ:

চরমোনাই দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও নীতিনির্ধারণী বৈঠকে নতুন মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ছাড়াও দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম এবং শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

​বৈঠকে নবনির্বাচিত সচিব পর্ষদের নেতৃবৃন্দকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজপথে জনমত গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন দলটির আমীর।