কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কবি নজরুলকে ‘বাংলাদেশের মন’ আখ্যা দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কবির সাহিত্যকে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

Jul 2, 2026 - 16:13
 0  3
কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী
×

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, বরং তিনি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা এবং প্রেরণার চিরন্তন উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন মূলত ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও কবির আদর্শে এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি মানুষ, এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।”

​আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​উল্লেখ্য, সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

আমলাদের চেয়ে নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেওয়ার তাগিদ:

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমলাতান্ত্রিক প্রটোকলের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের মূল্যায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একটি চমৎকার রূপক তুলে ধরে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।”

আইটি ও এআই-এর যুগে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা:

নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে এবং সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের এক অনিবার্য অংশ।”

অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে শানিত কলম:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবিকে ‘তারুণ্য, প্রেম ও ঐতিহ্যের কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, পরাধীন জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। পরাধীনতা, জুলুম, শোষণ, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব-বিদ্রোহের রণসংগীত থেকে শুরু করে ইসলামী তাহজীব-তমদ্দুনের গান কিংবা ভজন-কীর্তন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুলের প্রকাশ ছিল শুদ্ধ ও অনন্য। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই ছিল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।

দেশজুড়ে বছরব্যাপী কর্মসূচি ও ‘নজরুল সিটি’:

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে একটি আধুনিক ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এছাড়া দেশজুড়ে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুলপ্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

​অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও সংযুক্ত ও উপস্থিত ছিলেন:

​মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

​জহির উদ্দিন স্বপন, মন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

​জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা।

​নাসিমুল গণি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

​কানিজ মওলা, সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

​আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী), প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব।