পাথরবোঝাই ট্রাক উলটে প্রাণ গেল দুজনের
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাইপাস সড়কে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উলটে পড়ে চালক ও তাঁর সহকারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটিতে আগুন ধরে যায়।
কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই একটি ১০ চাকার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে উলটে পড়েছে। এতে ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী (হেলপার) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই উলটে যাওয়া ট্রাকটিতে আকস্মিক আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আজ রোববার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর-বটতৈল বাইপাস সড়কের ত্রিমোহনী ও বটতৈল এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা ট্রাকচালক আনিচুর রহমান আনিস এবং তাঁর সহকারী রতন।
দুর্ঘটনা ও উদ্ধার অভিযান:
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে ভারী পাথরবোঝাই করে ট্রাকটি ফরিদপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্রাকটি কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কের ওই নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে উলটে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে কেবিনের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে ট্রাকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কেবিন কেটে চালক আনিচুর রহমান আনিসের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে চালকের সহকারী রতন ভারী পাথরের স্তূপের নিচে চাপা পড়ায় তাঁকে উদ্ধারে বেশ কিছুটা সময় লাগে। পরবর্তীতে ক্রেন ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে পাথর সরিয়ে তাঁর লাশও উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ:
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরশেদ আলী বলেন, “খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত কাজ শুরু করায় আগুন পুরো ট্রাকে ছড়াতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্রেক ফেইল করে অথবা ভোর থেকে একটানা গাড়ি চালানোর ফলে চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে হাইওয়ে পুলিশের তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি উদ্ধার ও পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


