নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে শান্তি চুক্তিটি বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

Jun 27, 2026 - 17:50
 0  2
নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলা
×

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মাথায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ লেবানন। আজ শনিবার (২৭ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত এলাকা নাবাতিহ-তে (Nabatieh) একটি ইসরাইলি ড্রোন অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA)।

​দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এই আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পুরো প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

​জনাকীর্ণ মোড়ে ড্রোন আঘাত:

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ আল-ফাওকা এলাকার একটি অন্যতম জনাকীর্ণ মোড় ‘ফারাহ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ইন্টারসেকশন’কে সুনির্দিষ্টভাবে নিশানা করে ইসরাইলি ড্রোনটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ বা কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকস্মিক ও বিকট এই বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চারদিকে ছুটোছুটি শুরু করে।

​যে পরিস্থিতিতে হয়েছিল এই চুক্তি:

গত কয়েক মাস ধরে লেবানন-ইসরাইল সীমান্ত জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ভয়াবহ রকেট ও বিমান হামলা বিনিময় চলছিল। এই সীমান্ত সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যা যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারত।

​এমন এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং সীমান্তে একটি বাফার জোন (নিরাপদ এলাকা) গড়ে তোলার লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) উভয় পক্ষ একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা সমঝোতা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছিল।

​ভেঙে পড়ার মুখে আন্তর্জাতিক কূটনীতি:

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ইসরাইলের এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের তৈরি করতে পারে। এই হামলাটি কোনো সামরিক ভুল বোঝাবুঝি নাকি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও বৈরুতের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই গভীর প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

​দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার যে আশা জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে মুহূর্তের মধ্যে চরম সংকটে ফেলে দিল। তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (IDF) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।