নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন। এই উদযাপনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

Jul 2, 2026 - 13:53
 0  5
নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
×

দেশের ৬৪টি জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে বছরব্যাপী উদযাপনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি এই ঐতিহাসিক বর্ষের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

​জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির মূল জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার তারই আনুষ্ঠানিক ও দেশব্যাপী উদযাপনের যাত্রা শুরু হলো।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল হবে ‘নজরুল সিটি’:

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়ে বলেন, “কিশোর বয়সে ১৯১৪ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রথমবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক ত্রিশালকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছি।”

​প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও তাঁর হৃদয় ও চেতনা জুড়ে ছিল সমগ্র বাংলাদেশ। আর এ দেশের মানুষও তাঁকে চিরকাল হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছে ও আপন করে নিয়েছে।”

অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল আজও আলোড়ন:

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ ও তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন জাতির ভাগ্যআকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা আজও আমরা তাঁর সৃষ্টি থেকে পাই। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামেও নজরুলের কবিতা ও গান ছিল আপসহীন শক্তির উৎস।”

নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলকে পৌঁছানোর উদ্যোগ:

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, নজরুল শুধু অতীতের অংশ নন, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণদের সাথে জাতীয় কবির জীবন, দর্শন ও কর্মের সম্পর্ক আরও নিবিড় ও গভীর করতেই সরকার বছরব্যাপী এই ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

​সচিবালয়ের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আগামী ১ বছর দেশজুড়ে নানামুখী সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব ও নজরুল চর্চা প্রসারে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।