ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের দীর্ঘ ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩ বছরের এক শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করেছে জর্ডানের উদ্ধারকারী দল। বিস্তারিত জানুন।
প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক এক ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আজ বুধবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই রোমাঞ্চকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশটির উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপের একটি গভীর অংশ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শিশুটিকে টেনে বের করে আনছেন উদ্ধারকারীরা। শিশুটিকে জীবিত দেখার সাথে সাথেই উপস্থিত জনতা ও উদ্ধারকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ভাগ্যবতী ওই শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান। এই চরম সংকটের মুহূর্তে ক্লিবারের বেঁচে ফেরাকে তিনি ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য একটি বড় ‘আশার আলো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয়:
উল্লেখ্য, গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় পর পর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে চরম সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলায় লাখো মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পানীয় জল ও নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভূমিকম্পের ধাক্কায় দেশটির প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
ক্লিবারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা:
জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করার পরপরই ক্লিবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স যোগে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া আটকে থাকলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, শিশুটিকে বিশেষ সুরক্ষায় দেশের রাজধানী কারাকাসের একটি অত্যাধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সেখানে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছে। নিখোঁজ অন্যদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


