ফরিদপুরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, সুমাইয়া নামের তরুণী আটক
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামী হানিফ শেখের গোপনাঙ্গ ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলার এক নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহত হানিফ শেখ (২২) উপজেলার মানিকদী ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের রফিক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২০) উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরী পানাডুবি গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের মেয়ে। এই দম্পতি হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।
রাতের ঝগড়া ও সকালের নৃশংসতা:
স্থানীয় প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার রাতে কোনো একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী হানিফ শেখ ও স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পরে রাতে উভয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। তবে ক্ষোভ ধরে রেখে আজ সোমবার সকালে হানিফ শেখ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন সুমাইয়া আক্তার একটি ধারালো ব্লেড দিয়ে আচমকা তাঁর গোপনাঙ্গ কেটে ফেলেন।
এ সময় হানিফ শেখের তীব্র চিৎকার ও হাহাকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘরে ছুটে আসেন। তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
অভিযুক্ত আটক ও আইনি প্রক্রিয়া:
নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পর সুমাইয়া আক্তার পালানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা তাঁকে ঘরের মধ্যেই আটকে রাখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ এসে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
ভাঙ্গা কার্যানুযায়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “৯৯৯ থেকে তথ্য পেয়ে আমাদের কুইক রেসপন্স টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন। আহত যুবকের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের স্বজন বা আহতের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


