জু'য়া প্র'তি'রোধে সংসদে বিল পাস, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর কা'রা'দণ্ড

ডিজিটাল বেটিং ও অনলাইন জুয়া বন্ধে ১৮৬৭ সালের প্রাচীন আইন বাতিল করে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’ উত্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে অপরাধভেদে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

Jun 26, 2026 - 17:52
 0  2
জু'য়া প্র'তি'রোধে সংসদে বিল পাস, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর কা'রা'দণ্ড
×

দেশে প্রচলিত ১৮৬৭ সালের প্রাচীন জুয়া আইন বাতিল করে অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো আধুনিক অপরাধের বিস্তার রোধে জাতীয় সংসদে কঠোর বিধান সম্বলিত নতুন বিল আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করেন।

​১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ (The Public Gambling Act, 1867) রহিত করে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এই আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিলটি উত্থাপনের পর তা আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

২৪ ধরনের অপরাধ ও ১৪ ধরনের সাজা:

প্রস্তাবিত এই নতুন বিলে চিরাচরিত জুয়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক অনলাইন জুয়া, ক্যাসিনো, ডিজিটাল বাজি (বেটিং), মোবাইল অ্যাপস বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সাথে অপরাধের ধরন ও ভয়াবহতা অনুযায়ী ১৪ ধরনের কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

অপরাধভেদে সাজার বিবরণ:

বিলের খসড়া অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তরের অপরাধের জন্য আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে:

​সাধারণ জুয়া: কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচলিত সাধারণ কোনো জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তবে তিনি অনূর্ধ্ব ২ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

​অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া: ইন্টারনেট, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা যেকোনো দূরবর্তী মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

​অনলাইন বেটিং (বাজি): কেউ যদি দেশি বা বিদেশি কোনো অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপসের মাধ্যমে বাজি ধরা বা বাজি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তার সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

​ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং: খেলাধুলার জগতে জুয়াড়িদের সিন্ডিকেট রুখতে ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

​সংসদে বিলটি উত্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সময়ে মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে জুয়া ও বাজি ধরার মরণনেশায় জড়িয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে, তা রুখতে এই কঠোর আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থায়ী কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে বিলটি দ্রুতই পাসের জন্য সংসদের মূল অধিবেশনে তোলা হবে।