জুয়া ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীতে মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। জুয়া ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।
দেশে জুয়া ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদকের ব্যাপারে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণ করছে। তবে মাদকের অপব্যবহার এবং পাচার শুধু এককভাবে আইন প্রয়োগ করে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান ও প্রযুক্তির অপব্যবহার:
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের মাদক পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “মাদক কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং এটি পুরো পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদক গ্রহণ করছেন, যা আমাদের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই সংখ্যা অত্যন্ত শঙ্কার।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মাদক পাচারকারী চক্রগুলো এখন চরমভাবে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Social Media) এবং এনক্রিপটেড (গোপন কোডযুক্ত) যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে টার্গেট করছে। এই আধুনিক বাস্তবতার নিরিখে মাদকের অপব্যবহার বন্ধে আমাদের আরও আধুনিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
আইন সংশোধন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
মাদকের চাহিদা ও সরবরাহ বন্ধে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যুগোপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কেবল কঠোর আইন প্রয়োগই শেষ কথা নয়, মাদক প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো এর চাহিদা শূন্যে নামিয়ে আনা। সমাজে যদি মাদকের চাহিদা কমানো যায়, তবে এর অবৈধ উৎপাদন ও পাচার এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি জানান, মাদকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করতে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক, বিলবোর্ড এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মাদকবিরোধী রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


