৮টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইরানের আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন বাহিনীর আটটি সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি।

Jun 29, 2026 - 12:18
 0  3
৮টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইরানের আইআরজিসির
×

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এবার এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়ে সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

​কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) আজ সোমবার (২৯ জুন) এই চাঞ্চল্যকর সামরিক সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের যৌথ মেগা অপারেশন:

আইআরজিসির প্রকাশিত সামরিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েতের অভ্যন্তরে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান ও রাডার নেটওয়ার্ক ফাঁকি দিয়ে এই মেগা অপারেশন চালানো হয়। এতে ঝাঁকে ঝাঁকে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missiles) এবং দূরপাল্লার সুইসাইড ড্রোন ব্যবহার করেছে তেহরান।

​আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের মূল ভূখণ্ডের ‘সিরিক’ ও ‘কেশম’ (Qeshm) দ্বীপে অবস্থিত ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বাহিনী যে সাম্প্রতিক বিমান হামলা চালিয়েছিল, এটি মূলত তারই একটি সরাসরি ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দেওয়ার মতো পাল্টা জবাব (Retaliatory Strike)।

যে ঘটনার জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত:

এর আগে গত শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও মাইন হামলার জবাবে মার্কিন ফাইটার জেটগুলো ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেই হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ডিপো এবং সমুদ্রে মাইন পাতার বিশেষ সক্ষমতাগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছিল পেন্টাগন।

​‘মার্কিন ঘাঁটিগুলো নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে’— আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি:

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই বিমান হামলার পরপরই পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নতুন করে চরম ও বিধ্বংসী হুঁশিয়ারি জারি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌ শাখা।

​এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, “ইরানের সিরিক শহরে কাপুরুষোচিত মার্কিন হামলা কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে কোনোভাবেই দুর্বল করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ভঙ্গকারী ও শত্রুভাবাপন্ন জাহাজগুলোর ওপর আমাদের নৌবাহিনীর গুলি চালানো মূলত অন্য সব দেশের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা— এই অঞ্চলে কোন পথ দিয়ে শান্তিতে ও নিরাপদে চলাচল করতে হবে।”

​মার্কিন বাহিনীকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়ে বসা মার্কিন সামরিক ইউনিটগুলোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি কোণায় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো একেকটি জীবন্ত নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।”

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের এই সরাসরি পাল্টা আঘাতের পর ওয়াশিংটন ও পেন্টাগন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তার ওপর নির্ভর করছে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজার। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিয়ন্ত্রিত ও সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।