মেয়াদ শেষের আগেই কমিটি ভাঙছে ইসলামী আন্দোলন, মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের আভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ধারিত মেয়াদের ৬ মাস আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি ভাঙছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন? জানুন আসল তথ্য।
বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় ছয় মাস বাকি থাকলেও এর আগেই কমিটি ভেঙে মহাসচিবসহ শীর্ষস্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দলীয় পর্যালোচনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি এই আগাম পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামীকাল শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠেয় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরার জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মহাসচিব পদে পরিবর্তনের জোর সম্ভাবনা:
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ২০০৮ সাল থেকে টানা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা মাওলানা ইউনুছ আহমাদকে এবার উপদেষ্টা পরিষদ বা প্রেসিডিয়ামে যুক্ত করা হতে পারে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন মহাসচিব পদে বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্য থেকেও অন্য কেউ এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পেতে পারেন। পাশাপাশি সচিব পর্যায়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা মাঠপর্যায়ের সক্রিয় নেতাদের সামনে আনার বিষয়ে দলে জোরালো আলোচনা চলছে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন পুনর্গঠন?
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর বর্তমান কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছিল, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে গঠনতন্ত্রের ১১ ধারা অনুযায়ী আমিরের বিশেষ ক্ষমতা বলে মেয়াদের আগেই এটি ভাঙা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, “সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দলের কিছু সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ছয় মাস অপেক্ষা করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। সে কারণেই মজলিশে শুরার বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠনের এজেন্ডা তোলা হচ্ছে এবং শুরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আমিরে শরীয়ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
নির্বাচনী রাজনীতিতে জোর দিচ্ছে ‘হাতপাখা’:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে প্রায় ২২ লাখ (মোট ভোটের ২.৭০ শতাংশ) ভোট পেয়ে ১টি আসনে জয়লাভ করে ইসলামী আন্দোলন। তবে নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে এককভাবে নির্বাচন পরিচালনা, প্রার্থী বাছাই ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের কিছু নিষ্ক্রিয়তার মতো সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
দলটিকে একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Group) থেকে পুরোপুরি কার্যকর রাজনৈতিক ও নির্বাচনী শক্তিতে রূপান্তর করতেই এই উদ্যোগ বলে জানান নেতারা।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতে আরও ভালো করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি শক্তিশালী পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এই সময়োপযোগী সাংগঠনিক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।”


