জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে মাসব্যাপী ‘২ দফা ও ৭ দফা’ কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে ও দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে মাসব্যাপী ‘২ দফা ও ৭ দফা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।

Jul 1, 2026 - 18:52
 0  23
জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে মাসব্যাপী ‘২ দফা ও ৭ দফা’ কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের
×

বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধরে রাখতে এবং আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে মাসব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটি আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও টেকসই শিক্ষাঙ্গন বিনির্মাণে ২ দফা দাবি ও ৭ দফা কর্মসূচি পেশ করেছে। একই সাথে আন্দোলনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আগামী ১৮ জুলাইকে দেশব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

​আজ বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই বিস্তারিত কর্মসূচি ও আন্দোলনের খতিয়ান তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়।

কোটা আন্দোলন ও কওমি শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তকরণ:

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিকভাবে ৫৬ শতাংশ কোটানির্ভর নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘কোটা না মেধা’ আন্দোলনে শুরু থেকেই ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে সক্রিয় ছিল। গত ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদী কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সভাপতির সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে প্রথম দিন থেকেই সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তাতে যুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী সকল শাখা ও জেলা-মহানগরকে আন্দোলনে সর্বাত্মক শামিল হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।”

​বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৫ জুলাই রাতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার পর রাজপথে প্রথম বিক্ষোভ মিছিল করে এই সংগঠন। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই চরমোনাই কওমিয়া শাখার হাত ধরে দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এই জাতীয় আন্দোলনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যুক্ত করা হয়। এর পরপরই হাটহাজারী, যাত্রাবাড়ী, ফরিদাবাদ, লালবাগ, রামপুরা ও সাঈদনগরসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় কওমি মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র কোনো ব্যক্তিগত কোটা-সুবিধার আশা না করে স্রেফ জাতীয় বৈষম্য বিলোপের স্বার্থে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন। আন্দোলনে নরসিংদীর সর্বকনিষ্ঠ শহীদ তাহমিদ এবং মুজাহিদ পরিবারের সন্তান মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ প্রায় দুই সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।

১৮ জুলাই ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণার পটভূমি:

​ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ একমাত্র মূলধারা ও নিবন্ধিত political পার্টি হিসেবে কোনো ব্যানার বা পরিচয় গোপন না করে সরাসরি নিজেদের সাংগঠনিক ব্যানার নিয়ে রাজপথে ছাত্র-জনতার পাশে অবস্থান নিয়েছিল।

​১৮ জুলাই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে দলটির আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম প্রশাসনকে ধিক্কার দিয়ে শহীদ আবু সাঈদ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দেশের সকল অভিভাবককে সন্তানদের রক্ষায় রাজপথে নেমে আসার ঐতিহাসিক ডাক দেন। এই ডাক আন্দোলনকারীদের মাঝে টনিকের মতো কাজ করেছিল এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এই কারণে ১৮ জুলাইকে প্রতিবছর ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঢাকাসহ দেশের সকল ক্যাম্পাস ও জেলা-মহানগরে বিশেষভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৯ জুলাই বায়তুল মোকাররমে পুলিশের গুলিতে তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা এবং আন্দোলনের শেষ দিনগুলোতে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের শাহবাগ ও বায়তুল মোকাররমকে এক সুতোয় বেঁধে ‘জনগণের গণভবন বুঝে নেওয়ার’ ডাককে আন্দোলনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মাসব্যাপী ২-দফা দাবি ও ৭-দফা কর্মসূচি:

​সংবাদ সম্মেলন থেকে অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের প্রতি ২ দফা দাবি এবং তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৭ দফা সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়:

​২-দফা দাবি:

১. জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনাকে সমুন্নত রাখতে ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. জুলাইয়ের বিপ্লবের স্মৃতি চিরজাগরূক রাখতে একটি আধুনিক ‘জুলাই জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা ও উন্মুক্ত করতে হবে।

​৭-দফা জুলাই কর্মসূচি:

১. দেশব্যাপী জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের কবর জিয়ারত।

২. শহীদ পরিবারের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ এবং আহতদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় ও সহযোগিতা।

৩. জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ ও সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’।

৪. দ্রোহ ও জাগরণের জুলাই স্মরণে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সংলাপ ও দোয়া মাহফিল।

৫. ক্যাম্পাস ও গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালে শরীয়াহ অনুমোদিত গ্রافিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন।

৬. ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বীরত্বগাথা তুলে ধরতে দেশব্যাপী ‘জুলাই ডকুমেন্টারি’ প্রদর্শন।

৭. জুলাইয়ের রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ ও ইতিহাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন।

​নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি এবং শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের দলীয় সহিংসতা, লেজুড়বৃত্তি, অস্ত্রবাজি ও দমনমূলক আচরণ ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। ক্যাম্পাস হবে উন্মুক্ত জ্ঞান ও মুক্ত মতচর্চার নিরাপদ প্রাঙ্গণ।