রাঙ্গামাটিতে ইসলামী আন্দোলনের নেতার ওপর যুবদল নেতার হা'ম'লার অভিযোগ
রাঙ্গামাটির লংগদুতে ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা আব্দুল মান্নানের ওপর যুবদল নেতার নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শাহ ইফতেখার তারিক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দখলবাজি ও সন্ত্রাস রোধ করতে না পারলে বিএনপিকেও পতনের মুখ দেখতে হবে।
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতার ওপর যুবদল নেতার নৃশংস সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। আজ বুধবার (২৪ জুন) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “বিএনপি নেতা-কর্মীদের দখলবাজি, সহিংসতার রাজনীতি ও সন্ত্রাসের বিস্তার রোধ করতে না পারলে আওয়ামী লীগের মতোই তাদেরও শীঘ্রই পতনের মুখ দেখতে হবে।”
বিবৃতিতে জানানো হয়, আজ বুধবার সকালে রাঙ্গামাটি জেলার জয়েন্ট সেক্রেটারি ও লংগদু উপজেলার সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা আব্দুল মান্নানকে লংগদু উপজেলার ৩ নং গুলশাখালি ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
মাদ্রাসার জমি দখল ও হামলার বিবরণ:
ঘটনার বিবরণে শাহ ইফতেখার তারিক জানান, আজ সকালে মাওলানা আব্দুল মান্নান কর্তৃক পরিচালিত ‘দারুল মারকাজ মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা’র সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই জমি দখলের উদ্দেশ্যে বেড়া দেওয়া শুরু করে স্থানীয় যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ। মাওলানা আব্দুল মান্নান এই অবৈধ দখলবাজির প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী আবুল কালাম দেশীয় অস্ত্র হাতে তাকে ধাওয়া করে।
পরবর্তীতে মাওলানা আব্দুল মান্নান তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার জন্য গেলে যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ এবং তার ছেলে পারভেজ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা মাওলানা আব্দুল মান্নানের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এলে মাওলানা আব্দুল মান্নানের ভাইকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। বর্তমানে আহতরা লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রশাসন ও বিএনপির প্রতি আহ্বান:
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, “ন্যক্কারজনক এই হামলার বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথেও বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা আশা করি, প্রশাসন আইন অনুযায়ী সন্ত্রাসী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং স্থানীয় বিএনপি এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”
বিবৃতিতে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির ভূমিকা ও কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করেই দলটি পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।


