ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম

নড়াইল-২ আসনের জামায়াত সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান পত্রে তাঁর নিজের মেয়ের নাম দুই জায়গায় থাকার ঘটনায় তোলপাড়। কী রয়েছে তালিকায় এবং এমপির ব্যাখ্যা কী? জানুন।

Jun 27, 2026 - 21:43
 0  3
ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম
×

নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের (বাচ্চু) ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত একটি তালিকার দুই জায়গায় তাঁর এক মেয়ের নাম পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক দেখা দিলে তিনি নিজেই এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

​গত শুক্রবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি মঞ্জুরি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল)। চিঠিটি ছিল মূলত সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূলে স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মঞ্জুরির পত্র।

তালিকায় যা রয়েছে:

​ছড়িয়ে পড়া সরকারি চিঠিতে লেখা রয়েছে, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সাথে অনুদানপ্রাপ্ত ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ সারিবদ্ধভাবে উল্লেখ রয়েছে।

​ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নামের এক তরুণীর নাম। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে লেখা রয়েছে যথাক্রমে মো. বাচ্চু ও মো. আতাউর (সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু)। দুটি নামের পাশেই টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে যে, ফাইজা নামের ওই তরুণী মূলত সংসদ সদস্যের নিজের মেয়ে। এ ছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজের ইউনিয়ন হবখালীর এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।

যা বললেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান:

​আজ শনিবার দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া তালিকাটিকে সঠিক বলে প্রথম আলোকে নিজেই নিশ্চিত করেছেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান। তবে এই ভুলের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত সচিবকে (পিএস) দায়ী করে তিনি বলেন:

​“আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি বলেছিলাম, সব ইউনিয়ন থেকে নিয়ে তালিকা নাও। সে বলল, ‘অফিস থেকে বলেছে, একটা তালিকা যেকোনোভাবে দিয়ে, কয়টা নাম দিয়ে তোমরা এটা (বরাদ্দ) নিয়ে যাও। পরে সেটা এমপি সাহেব যেভাবে চাইবেন, ওভাবে বিতরণ করতে পারবেন।’ তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় তার (পিএস) কাছে ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, প্যাডে তুমি একটা তালিকা রেডি করে জমা দিয়ে দাও, তোমার চেনাজানাদের দিয়ে। সেই চেনাজানা জায়গাগুলোয় আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি ধরে ফেলেছে আরকি। সেটা ধরে সে তালিকা দিয়েছে।”

​তালিকায় টাকা আসার খবরও জানতেন না দাবি করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, “টাকাটাও যে আসছে, আমি জানি না। গতকাল (শুক্রবার) ফেসবুকে আসার পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা কি আসছে কি না। ইউএনও বললেন, ‘হ্যাঁ, স্যার টাকা তো আসছে।’ আমি বললাম, আমাকে জানান নাই তো। তালিকা তো ওখানে যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমার তো টাকা দিতে হবে ভিন্নভাবে। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতি হবে। এটা (তালিকাটি) এভাবে ফেসবুকে কেউ কেউ চালায়ে দেছে। আমার তালিকাটি (প্রকৃতপক্ষে যাঁদের দিতে চান) আজকে আমি ইউএনও সাহেবদেরকে আমি দিয়ে দিব, এই তালিকা অনুযায়ী তাঁরা এটা বিতরণ করবেন।”

তালিকায় নাম ছাড়া টাকা দেওয়ার সুযোগ নেই: ইউএনও

​সংসদ সদস্য তালিকা পরিবর্তনের কথা বললেও সরকারি বিধি অনুযায়ী তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির।

​তিনি জানান, এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী দেওয়া তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়ে আসে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাঁদের নামে বরাদ্দ হয়ে এসেছে, শুধু তাঁদেরই এই টাকা দিতে হবে, এর বাইরে অন্য কাউকে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ টাকা নিতে না আসেন, তবে তাঁর টাকা সরাসরি সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকায় দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি তালিকা সংশোধন করতে হয়, তাহলে পুনরায় সচিবালয় থেকেই সংশোধন করিয়ে আনতে হবে।