সিসিটিভির নজরদারি ও যৌতুকের নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ভারতের মুম্বাইয়ের কাছে থানের আম্বরনাথে বিয়ের মাত্র ৪৮ দিনের মাথায় বিশাখা তিলকর নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি ও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর চিকিৎসক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Jun 18, 2026 - 15:03
 0  2
সিসিটিভির নজরদারি ও যৌতুকের নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যা
×

বিয়ের বয়স মাত্র আটচল্লিশ দিন—দুই মাসেরও কম সময়। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই ভারতের ২৬ বছর বয়সি তরুণী বিশাখা তিলকরের জীবনকে আক্ষরিক অর্থেই নরক বানিয়ে তুলেছিল তাঁর চিকিৎসক স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারির মানসিক নিপীড়ন সইতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন এই তরুণী।

​চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাই সংলগ্ন থানে জেলার আম্বরনাথ এলাকায়। এই ঘটনায় নিহতের অভিযুক্ত স্বামী নিতিন তিলকরকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।

কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ব্যক্তিগত গোপনীয়তা:

বিশাখার পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন শুধু শারীরিক ছিল না, বিয়ের পর থেকেই তাকে চরম মানসিক নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আম্বরনাথের পুরো বাড়িটির ভেতর ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন পেশায় চিকিৎসক স্বামী নিতিন তিলকর। বিশাখার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হতো, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার (Privacy) শেষ অধিকারটুকুও।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে নিতিন ও বিশাখার ধুমধাম করে বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, বিয়ের পরপরই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিয়েতে মনের মতো উপহার সামগ্রী, গহনা এবং আশানুরূপ ‘মর্যাদা’ (যৌতুক) না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলায় নির্মম মারধর:

বিশাখার এক আত্মীয় জানান, “বাপের বাড়ি থেকে অনবরত মোটা অঙ্কের টাকা ও গহনা নিয়ে আসার জন্য বিশাখাকে চাপ দেওয়া হতো। নিতিন ঘরে-বাইরে সিসিটিভি লাগিয়ে বিশাখার প্রতি মুহূর্তের গতিবিধি মনিটর করত। সে বাপের বাড়ির লোক বা অন্য কারো সঙ্গে কথা বললেই নিতিন বাড়ি ফেরার পর তার ওপর চলত অমানুষিক নির্যাতন। এমনকি মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগেও একজন নারী প্রতিবেশীর সঙ্গে সামান্য কথা বলার অপরাধে বিশাখাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এই চরম হতাশা ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সে নিজের জীবন শেষ করে দেয়।”

​আত্মহত্যার মাত্র কিছুক্ষণ আগে বিশাখা তাঁর মায়ের কাছে ফোনে কেঁদে কেঁদে এই অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। মেয়ের মুখে সব শুনে পরদিনই বাবা-মা তাকে বাপের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার সব প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর মেলেনি; তার আগেই নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বিশাখা।

আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেফতার:

এই নৃশংস ঘটনায় আম্বরনাথের শিবাজিনগর থানায় নিহতের স্বামী নিতিন তিলকর, শাশুড়ি ছায়া তিলকর এবং দেবর নিনাদ তিলকরের বিরুদ্ধে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​থানে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী নিতিনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।