সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কুলাউড়া সীমান্ত সফর শেষে তিনি আর কী বললেন? জানুন বিস্তারিত।

Jun 27, 2026 - 06:38
Jun 27, 2026 - 06:38
 0  2
সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
×

সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই জঘন্য ঘটনাগুলোর আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে ভারতের এই একপাক্ষিক সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।”

​শুক্রবার (২৬ জুন) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নির্মমভাবে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন ও নিহতের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।

নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার ও বিজিবিকে শক্তিশালী করার দাবি:

​নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সীমান্তে বিএসএফের হাতে যাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই; তাদের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় হলো তারা স্বাধীন বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিক। শুধুমাত্র বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই ভারত একের পর এক নাগরিককে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করে যাচ্ছে।”

​তিনি সরকারের সীমান্ত নীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “সীমান্তে শুধু কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্ত এলাকায় হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার চরম ঘাটতি রয়েছে। এই সংকটগুলোর সমাধান করে সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নত করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের সামনে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, উন্নত টহল যান ও পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা দিয়ে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি। এনসিপি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

সীমান্তের প্রত্যেক নাগরিকই এক একজন বিজিবি: সারজিস আলম

​একই সফরে উপস্থিত এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে যে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, আগামীর নতুন বাংলাদেশে তা আর কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।” তিনি সীমান্তবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তের প্রত্যেক নাগরিককে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক একজন বিজিবি সদস্যের মতো অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।

​সারজিস আলম আরও বলেন, “সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন কিংবা আগ্রাসন প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সীমান্তে যদি ১০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন, তবে তাঁদের লজিস্টিক ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তায় পেছনের হাজারো সীমান্তবাসীকে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।”

​উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক হত্যার শিকার মুজিব আলীর বাড়িতে গিয়ে এনসিপি নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নিহতের মা-বাবার সাথে কথা বলেন ও গভীর সান্ত্বনা দেন। এরপর নেতৃবৃন্দ সীমান্তবর্তী চাতলা বাজারে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় বক্তব্য রাখেন।