পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের খারান ও মাস্তুং জেলায় সেনাবাহিনীর দুটি পৃথক অভিযানে ৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। নিহতদের ভারতের মদদপুষ্ট ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সদস্য বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।

Jun 27, 2026 - 13:21
 0  2
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত
×

পাকিস্তানের অশান্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের খারান ও মাস্তুং জেলায় দুটি পৃথক বিশেষ অভিযানে অন্তত ৮ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। আজ শনিবার (২৭ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডন এই খবর প্রকাশ করেছে।

​আইএসপিআর জানায়, গত ২৫ ও ২৬ জুন বেলুচিস্তানের দুই জেলায় এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করছে।

​ইসলামাবাদের দাবি, বেলুচিস্তানভিত্তিক এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর পেছনে ভারতের প্রত্যক্ষ অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা রয়েছে এবং তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে ভারতের নয়াদিল্লি বরাবরই পাকিস্তানের এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

খারান ও মাস্তুং অভিযানের বিবরণ:

সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই দুটি অভিযানের বিবরণ দিয়ে আইএসপিআর জানায়:

​খারান জেলা (২৫ জুন): ২৫ জুন খারান জেলায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তির গতিবিধির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী চারপাশ থেকে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। সেনাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

​মাস্তুং জেলা (২৬ জুন): ২৬ জুন মাস্তুং জেলায় একটি বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার খবর পেয়ে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তীব্র গোলাগুলির পর একজন আত্মঘাতী বোমারুসহ মোট ৫ জন নিহত হন।

​অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ, আইইডি (তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক ডিভাইস) এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় আর কোনো সশস্ত্র ব্যক্তি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে এখনো পুরো অববাহিকায় বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের কঠোর বার্তা:

এই সফল অভিযানের পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি বলেন, “এই সফল অভিযান আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার প্রমাণ। দেশ থেকে বিদেশি রাষ্ট্র-মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত এই অভিযান এক চুলও থামবে না।”

​একই সুর মিলিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, “পাকিস্তানকে অশান্ত করার যেকোনো বিদেশি চক্রান্ত কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমাদের এই লড়াই দেশ থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের শান্তির শত্রুদের যেকোনো মূল্যে পরাজিত করা হবে।”