আমরা প্রতিশোধ নয়, গুমের সুষ্ঠু বিচার চাই: এমপি লুনা

গুমের শিকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা জানিয়েছেন, তারা কোনো প্রতিশোধ চান না, বরং গুমের সুষ্ঠু বিচার চান। গুম হওয়া পরিবারগুলোর জন্য ভাতার দাবি জানিয়ে তিনি আর কী বললেন? জানুন বিস্তারিত।

Jun 26, 2026 - 18:12
 0  2
আমরা প্রতিশোধ নয়, গুমের সুষ্ঠু বিচার চাই: এমপি লুনা
×

গুমের শিকার বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে গুমের শিকার পরিবারের সদস্য হিসেবে অবর্ণনীয় কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা কারও ওপর কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না; আমরা শুধু এই অমানবিক গুমের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই।”

​শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক আবেগঘন আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গুমের শিকার স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চার ২০২৬’ বা আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

গুম হওয়া পরিবারগুলোর জন্য ভাতার দাবি:

​সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা তাঁর বক্তব্যে বিগত স্বৈরাচারী আমলের নির্মমতা তুলে ধরে বলেন, “২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল আমার স্বামী ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে গুম করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে হাজারো বিএনপি নেতাকর্মীকে শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে গুমের শিকার হতে হয়েছে। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যেই এই রাষ্ট্রীয় নির্মমতা চালিয়েছিল।”

​চলমান বাজেট অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি একটি বিশেষ দাবি জানান। লুনা বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য সরকার যেভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতার ব্যবস্থা করেছে, একইভাবে গুমের কারণে চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পড়া পরিবারগুলোর জন্যও স্থায়ী ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত। এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সম্মান।” এ বিষয়ে তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের বক্তব্য স্মরণ ও আইনের অগ্রগতি:

​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্য স্মরণ করে লুনা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেমন অতীতে নিজের ওপর হওয়া রাজনৈতিক নির্যাতনের কোনো প্রতিশোধ চান না, আমরাও কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চাই না। কারণ প্রতিশোধ নিলে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের ফিরে পাব না। তবে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে এর বিচার চাই। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আবারও কোনো পরিবার একই ধরনের নির্মমতার শিকার হতে পারে।”

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুমের আইন নিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ছড়ানো কিছু অপপ্রচারের কড়া জবাব দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, “সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি অধিকতর যাচাই-বাছাই ও আইনি সংস্কারের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গুম ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইনও রয়েছে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে যে আমরা এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

​তিনি আরও জানান, গুমবিরোধী আইনটি শক্তিশালী করতে তাঁরা নিয়মিত আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। গত মাসের ১৭ তারিখেও মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ও সাংবাদিকদের নিয়ে আইনটিকে আরও আধুনিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, বাজেট অধিবেশন-পরবর্তী অধিবেশনেই গুম ও মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আইন সংসদে পাস হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।