হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা, ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাল্টা আঘাত

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর এই অভিযান চালায় সেন্টকম।

Jun 27, 2026 - 05:48
Jun 27, 2026 - 05:56
 0  8
হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা, ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাল্টা আঘাত
×

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা জোরদার সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘বোকামিপূর্ণভাবে লঙ্ঘনের’ তীব্র অভিযোগ তোলার পরপরই গত শুক্রবার (২৬ জুন্) এই মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

​영국의 প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে আজ এই বড় সামরিক উত্তেজনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের মূল ভূখণ্ডের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার (ডিপো) এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা (Precision Strikes) চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো ইরানি ড্রোন হামলার এটি একটি ‘শক্তিশালী ও জুতসই জবাব’।

​যে ঘটনা থেকে এই সংঘাতের সূত্রপাত:

বিবিসি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) আত্মঘাতী ড্রোন আচমকা একটি আন্তর্জাতিক কার্গো জাহাজে আঘাত হানে। হামলায় জাহাজটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভাগ্যক্রমে কোনো নাবিক হতাহত হননি। তবে এই ঘটনার পরপরই সমুদ্রপথটিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জরুরি প্রস্তুতি শুরু হয়।

​এই ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “ইরানের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলার জবাব দেওয়া হবে কি না, তা আপনারা খুব দ্রুতই নিজের চোখে দেখতে পাবেন।” তাঁর এই হুঁশিয়ারির পরই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটার জেটগুলো ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

​চুক্তি লঙ্ঘন ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বিঘ্নিত:

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর এই উসকানিমূলক আগ্রাসন দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ইরানের এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্যের জন্য লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের বৈশ্বিক স্বাধীনতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, সমুদ্রপথটি দিয়ে চলাচলকারী সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা মিত্রদের সাথে যৌথ সমন্বয় ও আকাশপথের পাহারা অব্যাহত রাখবে।

ভেঙে পড়ার মুখে শান্তি সমঝোতা:

হঠাৎ শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তি সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

​উল্লেখ্য, চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নৌ-চলাচল ও মহড়া সীমিত করেছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১৭ জুন উভয় দেশ একটি ১৪ দফার গোপন সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধান শর্ত ছিল। কিন্তু মাত্র ৯ দিনের মাথায় এই চুক্তি ভেঙে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের খরচ এক লাফে অনেক বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।